1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
হালাল ভালোবাসা কি? | কওমী ভয়েস
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

হালাল ভালোবাসা কি?

Reporter Name
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১
  • ৯৭ জন দেখাছেন

ভালোবাসা মৌলিক মানবীয় গুণাবলির একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবীয় গুণাবলি বিকাশে ও উত্তম মনুষ্য চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন বা সুকুমারবৃত্তি অর্জনের মূলেও রয়েছে বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসা। সৃষ্টিকুল কায়েনাত ভালোবাসার ফল।

হাদীসে কুদসিতে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি ছিলাম গোপন ভান্ডার; ভালোবাসলাম প্রকাশ হতে, তাই সৃজন করলাম সমুদয় সৃষ্টি।

আল্লাহর কুদরতের জগতে ভালোবাসাই হলো প্রথম সম্পাদিত ক্রিয়া বা কর্ম। এই ভালোবাসা পবিত্র কুরআনে ৭টি পর্বে ৬৩ বার উল্লেখ হয়েছে। বিশ্বাসী বা মুমিনদের ভালোবাসা সম্পর্কে ১৪টি আয়াত রয়েছে; কাফেরদের ভালোবাসা সম্পর্কে রয়েছে ১২টি আয়াত; আল্লাহ ভালোবাসেন না প্রসঙ্গে আছে ১৫টি আয়াত; আল্লাহ ভালোবাসেন প্রসঙ্গে আছে ৯টি আয়াত; ভুল করে ভালোবাসা সম্পর্কে বিবৃত আছে ৩টি আয়াত, ভালোবাসার অসার দাবি সম্পর্কে রয়েছে ১টি আয়াত; ভালোবাসার অন্যান্য প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে ৬টি আয়াত।

যাদেরকে ভালোবাসা হালাল
১. আল্লাহকে ভালোবাসা: আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতে হবে। ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার নবীর অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন।’

২. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালবাসা ঈমানের অন্যতম অঙ্গ। অজ্ঞতার কারণে অনেকেই এ বিষয়ে বেখেয়াল থাকেন অথবা ভিন্ন আকীদা পোষণ করেন। যা মোটেও কাম্য নয়। যাঁকে সৃষ্টি না করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুল-মাখলুকাতের কিছুই সৃষ্টি করতেন না। তাঁর প্রতি ভালবাসার কারণের সৃষ্টিকর্তা এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তাই আল্লাহর বান্দা হিসেবে এবং রাসূল পাক সা. এর উম্মত হিসেবে প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবকিছুর উপর ভালবাসা প্রদর্শন করা।

হুব্বে রাসূল মানে রাসূল প্রেম-রাসূলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। আনাস বিন মালেক রাযি. হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তিনটি জিনিষ যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করবে। এক. আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল তার নিকট দুনিয়ার সব কিছু হতে প্রিয় হওয়া, দুই. কোন মানুষকে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও তিন. ঈমান আনার পর কুফরিতে ফিরে যাওয়াতে এমন অপছন্দ করবে, যেমন আগুনে নিক্ষেপ করাকে অপছন্দ করে।”

৩. বাবা-মাকে ভালোবাসা: দুনিয়াতে বাবা-মা দুজনই প্রতিটি ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের জন্য বাবা-মা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দুনিয়া দেখার একমাত্র উপলক্ষও তারা।

সন্তানের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার সার্বিক বিষয়ে নিবেদিত প্রাণ ও যত্নশীল মা-বাবা। তারা সন্তানের জন্য এতটাই নিঃস্বার্থ যে সবকিছুর ওপর কোনো কাজেই বাবা-মা সন্তানের কাছে কখনো কোনো বিনিময় চান না।

এ কারণেই ইসলাম বাবা-মার সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান নিশ্চিত করেছে। পরিবারেও বাবা-মার মর্যাদা ও সম্মান সবার ওপর। আল্লাহ তাআলা সুরা বনি ইসরাইলে ঘোষণা করেন-

‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা তিনি (আল্লাহ) ছাড়া কারো উপাসনা করো না এবং বাবা-মার প্রতি উত্তম আচরণ করো। তাদের একজন কিংবা উভয় যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের উফ্ বলো না এবং তাদের ভর্ৎসনা করো না বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক নম্র ভাষায় কথা বলো। অনুকম্পায় তাদের প্রতি বিনয়াবনত থাকো। আর বলো- ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের প্রতি দয়া কর, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩-২৪)

৪. সন্তান-সন্তুতির প্রতি ভালোবাসা: সন্তানের প্রতি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা মানুষের সহজাত। ভালোবাসার শক্ত এ ভিতের ওপরই টিকে আছে মানবজাতি, দাঁড়িয়ে আছে মানবসভ্যতা।

মমতার গভীর এ মেলবন্ধন না থাকলে অন্যান্য জীবগোষ্ঠীর মতো হয়তো মনুষ্য জাতিও এতোদিন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতো।

সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার প্রপাঢ় ভালোবাসার প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জেনে রেখো! নিশ্চয় সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি (এর মোহ ও মমতা) তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা।

’ -সূরা আনফাল : ২৮

অন্য আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। ’ -সূরা কাহাফ : ৪৬

এ ছাড়াও পবিত্র কোরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা সন্তানের প্রতি নবীদের স্নেহ ও মমতার একাধিক দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন।

৫. ভাই-বোনের ভালোবাসা: ভাই আর বোনের ভালোবাসা মনে হয় যুগ যুগান্তরের সত্যি কারের ভালোবাসা। যা কখনো ভাই বোনের সম্পর্ক ফাটল ধরার নয়। প্রত্যেকটা ভাই তার বোনকে যেন ভালোবাসায় স্নেহে আগলে রাখে। প্রত্যেকটা ভাই যেন তার বোনের জন্য পার্সোনাল বডিগার্ড। প্রত্যেকটা ভাই চায় তার বোন যেন সুখে শান্তিতে থাকুক। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা হলো ভাই বোনের ভালোবাসা। শত কষ্ট ও সুখের মাঝেও এই ভালোবাসা টিকে থাকে। ভাই বোন হল আল্লাহর অশেষ বড় নিয়ামত।

৬. স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা: আমরা অনেক সময় মনে করি ইসলামে ভালোবাসা বলে কিছু নেই, শুধু চোখমুখ বুজে রোবটের মত জীবন কাটাব।
আসলে কিন্তু তা সঠিক নয়, বরং আমাদের নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার স্ত্রীদেরকে অনেক ভালোবাসতেন। ভালোবাসায় ছিল না কোন মিথ্যা, বেহায়াপনা বা অশ্লীল কিছু, ভালবাসা ছিল পবিত্র যা আমাদের জন্য আদর্শ।
তিনি বলেন “তোমরা ঐ পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবেনা যতক্ষণ না পর্যন্ত মুমিন হও, আর ততক্ষন পর্যন্ত মুমিন হতে পারবেনা যতক্ষণ না পর্যন্ত একে অপরকে ভাল না বাসো।”

‘তোমাদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তাদের স্ত্রীদের জন্য উত্তম। আর আমি আমার স্ত্রীদের জন্য তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।

’ -তিরমিজি
চলবে ইনশাআল্লাহ

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন কওমী ভয়েস