1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
  2. muftimahbub454@gmail.com : কওমী ভয়েস : কওমী ভয়েস
শাওয়ালের ছয় রোজা; কয়েকটি উপকারিতা | কওমী ভয়েস
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৪:১০ অপরাহ্ন

শাওয়ালের ছয় রোজা; কয়েকটি উপকারিতা

মুফতী মাহবুব
  • আপডেট সময়: সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
  • ৪৯ জন দেখাছেন

‘শাওয়াল’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো: উঁচু করা, উন্নতকরণ; উন্নত ভূমি; পূর্ণতা, ফলবতী, পাল্লা ভারী হওয়া, গৌরব করা, বিজয়ী হওয়া; প্রার্থনায় হস্ত উত্তোলন করা বা ভিক্ষায় হস্ত প্রসারিত করা। এই মাসের আমলের দ্বারা উন্নতি লাভ হয়; নেকির পাল্লা ভারী হয়; গৌরব অর্জন হয় ও সাফল্য আসে।

রমযানের পরের মাস শাওয়াল মাস। রমযানে পূর্ণ মাস রোজা পালন করা ফরজ, শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা সুন্নত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন, ‘যখন তুমি (ফরজ দায়িত্ব পালন থেকে) অবসর হবে, তখন (নফল ইবাদতের মাধ্যমে) তোমার রবের প্রতি মনোনিবেশ করো’ -সুরা-৯৪ ইনশিরাহ, আয়াত: ৮

এক বছরব্যাপী রোজা রাখার সাওয়াব। প্রিয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোজা রাখল এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল সে যেন গোটা বছর রোজা রাখল।- সহীহ মুসলিম ১১৬৪; আবু দাউদ, হাদীস: ২৪৩৩; তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, সহীহ-আলবানি।

অন্য বর্ননায় আছে’ আল্লাহ এক নেকীকে দশগুন করেন সুতরাং এক মাসের রোজা দশ মাসের রোজার সমান বাকী ছয়দিন রোজা রাখলে একবছর হয়ে গেল’ -নাসায়ী, ইবনে মাযাহ

শাওয়াল হলো আরবি চান্দ্র বছরের দশম মাস। এটি হজের তিন মাস—শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজের প্রথম মাস; এই মাসের প্রথম তারিখে ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ। পয়লা শাওয়াল সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা এবং ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। এই মাসের সঙ্গে হজের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে ঈদের; এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে রোজা ও রমজানের এবং এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে সদকা ও জাকাতের। তাই এই মাস আমল ও ইবাদতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এক বর্ণনায় রয়েছে, প্রিয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা শাওয়াল মাসের ৬ দিনে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসে ৬ দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সৃষ্ট জীবের সংখ্যা হিসাবে তার আমলনামায় নেকি লিখে দেবেন, সমপরিমাণ গুনাহ মুছে দেবেন এবং পরকালে তার দরজা বুলন্দ করে দেবেন।’

শাওয়াল ও শা’বান মাসে নফল রোজা সুন্নাত নামাজের সাদৃশ্য। ফরজ নামাজের পুর্বে ও পরের সুন্নাত যেভাবে ফরজ আদায়ের ক্ষেত্রে ত্রুটি ও অবহেলায় সৃষ্ট ঘাটতির পরিপুরক,শাওয়াল ও শা’বানের রোজাও রমযানের ফরজ রোজার ঘাটতি পুষিয়ে নেয়। কেননা নফল এবাদত ফরজের ঘাটতি পুরন করে।

রমযানের এবাদত কবুলের নিদর্শন। শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখলে মনে প্রশান্তি আসে যে আল্লাহ রোজা কবুল করেছেন, কেননা আল্লাহ যে বান্দাহ’র এবাদত কবুল করেন তাকে আরও আমলের তাওফিক দেন।

অনেক সালাফ থেকে বর্নিত, নেক কাজের পর আরেকটি নেক কাজ পুর্বের নেক কাজ কবুল হওয়ার আলামাত। আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়। আল্লাহ রমজানের পুর্নমাস রোজা ও এবাদাতের তাওফিক দিয়েছেন, ঈদের দিন ক্ষমার ঘোষণা ও দিয়েছেন,এর শুকরিয়া হিসাবে ছয়টি রোজা রাখা উচিত। সালাফদের মধ্যে অনেকেই সারা রাতব্যাপী এবাদত করার তাওফিক প্রাপ্ত হলে শুকরিয়া স্বরুপ পরদিন রোজা রাখতেন।

সাদকা- খায়রাতের ঘাটতি পুরণ। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহঃ বলেন, من لم يجد يتصدق به فيصم যে সাদাকার সামর্থ রাখেনা সে যেন রোজা রাখে।

উল্লেখ্য,শাওয়ালের ছয়টি রোজা ঈদের পরের দিন থেকে রাখা জরুরি নয়,শাওয়াল মাসের মধ্যে রাখলেই হবে,ধারাবিহক হতে পারে পৃথক পৃথক ও হতে পারে। আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দিন।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized BY QawmiVoice