1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
যারা শুধু জুমআর নামায পড়ে তারাই বেনামাযী | কওমী ভয়েস

যারা শুধু জুমআর নামায পড়ে তারাই বেনামাযী

  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১০২ জন দেখাছেন

আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়- আমরা মুমিন, আমরা মুসলিম। আমরা জন্মের প্রথম দিন থেকে যে পরিচয় বহন করি তা হল, আমরা মুসলিম। তারপর জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে জীবনের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন পরিচয় এসে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়; কেউ ডাক্তার হয়, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হয়, কিন্তু তখনও আমাদের আসল পরিচয় থাকে- আমরা মুসলিম। এ পরিচয়েই আমাদের মর্যাদা, আমাদের সম্মান।

পক্ষান্তরে, মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সব পরিচয় মুছে যায়। মৃত্যু মানুষের সব পরিচয় মুছে দেয়। তখন শুধু ঈমান ও আমলে ছালেহ-এর পরিচয়টাই বাকি থাকে। আখেরাতে অন্য কোনো পরিচয় কাজে আসবে না। একমাত্র এই পরিচয়ই কাজে আসবে যে, সে মুসলমান, সে ঈমানদার।

অতএব, মুসলমান পরিচয়টা যেহেতু আমাদের সবসময় কাজে আসবে সেহেতু এ পরিচয় আমাদের থেকে কখনো যেন ছুটে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ঈমান একটা গাছ। এই গাছের ফল হল, আমলে ছালেহ- নেক আমল। এর ফুল হল, নামায। অনেক কাজ করলাম জীবনে, কিন্তু ফল হল না। আমার ঈমানের বৃক্ষ কোনো ফল দিল না। আমি ঈমানদার এটা তো আমাকে প্রমাণ দিতে হবে। যদি আমি নামায না পড়ি তাহলে কিন্তু সেটা প্রমাণ হল না। পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঠিক মত পড়ে। নামায পড়তে কতক্ষণ সময় লাগে? এত প্রস্তুতিও লাগে না। নামায হল সবচেয়ে সহজ।

অনেক সময় এমন প্রশ্ন দেখা দেয় যে, যাঁরা শুধু জুমআর নামায এবং রমযান মাসে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন, তাঁদের কি বেনামাযি বলা যাবে? কোনো সন্দেহ নেই, এরা বেনামাযি। নামায আসলে তারা আদায় করেনি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তো সালাত ফরজ করেছেন পাঁচ ওয়াক্ত।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ তাআলা দিন ও রাতের মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতকে ফরজ করেছেন। এখন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত যেটি ফরজ, সেটি যদি কেউ আদায় না করে থাকেন, তাহলে তো তিনি কুফরি করলেন। তার সব ইবাদত, সব আমল আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের কাছে কিচ্ছু না। কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এগুলোর কোনো মূল্য হবে না এবং মিজানের মধ্যে এর কোনো ওজন দেওয়া হবে না।

তাই শুধু জুমআর নামায বা ঈদের নামায যাঁরা লোক দেখানোর জন্য পড়েন, তাঁদের এটি লৌকিক সালাত। এই লৌকিক সালাত শুধু যে অন্যায়, তা নয়। বরং এ ব্যাপারে কুরআনুল কারীমের মধ্যে আল্লাহ বলেছেন, ‘ফাওয়াইলুল্লিল মুসাল্লিন। আল্লাজিনাহুম আং সলাতিহিম সাহুন। আল্লাজিনাহুম ইউরাউন’। অর্থাৎ লোকদের দেখানোর জন্য, অমনোযোগীভাবে শুধু লৌকিক সালাত যারা আদায় করে থাকে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, ‘এ ধরনের মুসল্লি যারা আছে, তাদের জন্য ধ্বংস।’

অতএব, বেনামাযি বলতে মূলত বোঝায় যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিহার করে বা তরফ করে। সেটি যদি এক ওয়াক্ত কেউ তরফ করে থাকে, তাহলেও সে বেনামাযি। কিন্তু ধরেন, যদি ওজরের কারণে কেউ আজকে নামায পড়তে পারলেন না, তাই আগামীকাল আদায় করে নিলেন, তাহলে তাকে বেনামাযি বলা হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস