1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
মিথ্যাবাদীর আমল কি কবুলই হয় না? | কওমী ভয়েস
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

মিথ্যাবাদীর আমল কি কবুলই হয় না?

মুফতী মাহবুব
  • আপডেট সময়: রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৭৪ জন দেখাছেন

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত। ১. এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ। ২. নামায প্রতিষ্ঠা করা। ৩. জাকাত প্রদান করা। ৪. কা‘বা গৃহের হজ্জ করা। ৫. রমযান মাসে রোযা পালন করা।”-বুখারি ৮, মুসলিম ১৬, তিরমিযি ২৬০৯

ইসলামের পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরজ। আমি তা আদায় করছি, রমযানের রোযা রাখা ফরজ। তাও রাখছি এবং অন্যান্য ভালো কাজও করছি কিন্তু সংসারে এত অশান্তি কেন? যেন কিছুতেই এ অশান্তি পিছু ছাড়ছে না।

আল্লাহ তাআলা নামাযীর দুআ কবুল করবেন। অথচ আমি নামাযে যে দুআ করছি তাও কবুল হচ্ছে না, সন্তানরাও নানান খারাপ কাজে লিপ্ত। এর কারণ কি?

এর মূল কারণ হচ্ছে, আমার অন্তর ও বাহির এক নয়। আমি মুখে বলি একটা আর করি অন্য। আমি অন্যকে যে নসিহত করি তা নিজেই পালন করি না। নিজ ঘরে সেই নসিহতের আমল নেই। আমার সবকিছুতে মিথ্যা ছেয়ে আছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস শরীফে ইরশাদ করেন, ‘অযু ছাড়া নামায আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ -সহীহ মুসলিম

সেহিসেবে বলা যায়, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে তার পুণ্যকর্ম আল্লাহর দরবারে মূল্যহীন। আসলে যারা মিথ্যা বলে আল্লাহ তাআলার তাদের ওপর ভরসা নেই। তারা মনে করে মিথ্যা বলে আমি অনেক কিছু অর্জন করে নিব; কিন্তু তারা বুঝে না যে, এই মিথ্যাই তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে, তার সন্তানদের ভবিষ্যত সে নষ্ট করছে। মিথ্যাবাদীদের মূলত ঈমান নেই।

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে যারা ঈমান রাখে না কেবল তারাই মিথ্যা আরোপ করে থাকে।’ -সুরা নাহাল, আয়াত: ১০৫

এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ে মিথ্যা কসম করা থেকে বিরত থেকো। কেননা এর কারণে (সাময়িক) পণ্য বেশি বিক্রি হলেও বরকত কমে যায়।’ -মুসলিম

এতো কিছু জানার পরে একটু লক্ষ করুন, যে আমরা কি দেখছি? ব্যবসায়-বাণিজ্য যে কাজই করছি সব কিছুতে মিথ্যাকে প্রাধান্য দিচ্ছি, যার ফলে সংসারের শান্তি যেন বিনষ্ট হয়ে গেছে।

সাথে সাথে আমার ইবাদত-বন্দেগি আল্লাহর দরবারে কোন কাজে আসছে না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমার সকল কাজে মিথ্যার ছড়াছড়ি। যদিও আমরা জানি মিথ্যা বলার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ, তারপরও মিথ্যাই যেন আমাদের সঙ্গী।

দেহ আল্লাহর দান। এই দেহের প্রতিটি অঙ্গের বিষয়ে আল্লাহর দরবারে আমাদেরকে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। সামান্য লাভের জন্য মিথ্যা বলে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে বিষয় তোমার জানা নেই সে বিষয়ে কোন অবস্থান নিও না। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয়-এগুলোর প্রত্যেকটি সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ -সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৩৬

ওপর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমাদের জিহ্বা দ্বারা বানানো মিথ্যার ওপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর ওপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।’ -সুরা নাহাল, আয়াত : ১১৬

একটু ভেবে দেখুন তো, সর্বক্ষেত্রে যারা সত্য বলে তাদের পুরস্কারস্বরূপ রয়েছে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি আর যার সাময়িক লাভের জন্য মিথ্যাকে জীবনের সঙ্গী বানিয়ে নিয়েছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘সত্যবাদিতা কল্যাণের দিকে পথ দেখায় এবং কল্যাণ মানুষকে জান্নাতের পথে নিয়ে যায়। কোন মানুষ সত্য কথা বলতে থাকলে আল্লাহ তাকে সত্যবাদীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। মিথ্যাচার পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপাচার মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। কোন লোক মিথ্যা কথা বলতে থাকলে আল্লাহ তাকে মিথ্যাবাদীদের তালিকাভুক্ত করেন।’-বুখারী ও মুসলিম

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ যখন মিথ্যা কথা বলে, তখন মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতারা মিথ্যাবাদী থেকে এক মাইল দূরে চলে যায়।’ -তিরমিজি

উল্লেখিত আলোচনার পর আপনিই বলুন, আমি নামায-রোযা যাই করিনা কেন মিথ্যা যদি পরিত্যাগ না করি তাহলে আমার এ আমলে কোন লাভ নেই। তাই যেভাবেই হোক মিথ্যা পরিত্যাগ করতেই হবে। মিথ্যা পরিত্যাগ ছাড়া আমার ইবাদত আল্লাহর কাছে কোনই মূল্য নেই। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলার কারণে প্রতিনিয়ত কতই না সুখের সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়াও আমাদের মিথ্যা বলার কারণে সন্তানদের ওপরও এর মন্দ প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে সন্তানরাও মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে যায় আর ধীরে ধীরে তারা পরিবারের বদনামের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্মানিত পাঠক আসুন, নিজেদের পুণ্যকর্মগুলোকে আল্লাহর দরবারে গৃহীত করার জন্য মিথ্যা পরিত্যাগ করি আর পাপকর্মের জন্য তার কাছে ক্ষমা চাই। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তার ক্ষমার চাদরে আবৃত করে নিন, আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন কওমী ভয়েস