নারীর জিজ্ঞাসা

মাসিক অবস্থায় যে আমল করবে নারী

  Mahbub ১২ অক্টোবর ২০২১ , ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মুফতী মাহবুব


হায়েজ কাকে বলে?

হায়েজ একটি আরবি শব্দ। হায়েযের আভিধানিক অর্থ হলো প্রবাহিত হওয়া। শরীয়তের পরিভাষায় নির্দিষ্ট সময় নারীর জরায়ুর গভীর থেকে কোনো অসুখ ও আঘাত ব্যতীত যে রক্ত প্রবাহিত হয় তাকেই হায়েজ বলা হয় ।

হায়েজ কেন হয়?

وَقَوْلُ النَّبِيِّ  صلى الله عليه وسلم  هَذَا شَيْءٌ كَتَبَهُ اللهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ كَانَ أَوَّلُ مَا أُرْسِلَ الْحَيْضُ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَحَدِيثُ النَّبِيِّ  صلى الله عليه وسلم  أَكْثَرُ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ্ তা‘আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কারো কারো মতে সর্বপ্রথম হায়য শুরু হয় বনী ইসরাঈলী মহিলাদের। আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসই গ্রহণযোগ্য।

হায়েজ মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির মধ্যে একটি সাধর্ণ স্বভাব; যার ওপর আল্লাহ আদমের মেয়েদের সৃষ্টি করেছেন। নারীদের গর্ভাশয়ে আল্লাহ এ রক্ত সৃষ্টি করেছেন এজন্যে যে, যেনো গর্ভে থাকা বাচ্চা তা খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। প্রসবের পর এ রক্তই নারীর স্তনের দুধ হিসেবে রূপান্তরিত হয়। নারী গর্ভবতী বা দুগ্ধ দানকারিণী না হলে গর্ভাশয়ে সৃষ্ট রক্ত ব্যবহৃত হওয়ার কোনো স্থান থাকে না, তাই তা নির্দিষ্ট সময় জরায়ু দিয়ে নির্গত হয়। হায়েজকে আমাদের দেশে ঋতু, রজঃস্রাব, মাসিক ও পিরিয়ড ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বয়সী মেয়েরা এই প্রাকৃতিক সমস্যাটি সামলে থাকেন। অনেকের বড় কষ্টের কারণ এই হায়েজ। অথচ একটু অন্য ভাবে চিন্তা করলেই দেখতে পাবেন, এটি কিন্তু নারীদের জন্যে একটি দারুণ নিয়ামত। কিভাবে?!

কারণ হায়েজ অবস্থায় :
১) যত খুশি যিকির করা যায়।
২) যত খুশি ইস্তেগফার করা যায়।
৩) জাহান্নামের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর চিন্তা করা যায়। [কারণ হায়েজ অবস্থায় সময় বেশি পাওয়া যায়]
৪) জান্নাত নিয়ে গভীর চিন্তার সাগরে ডুবে থাকা যায়।
৫) অতিমাত্রায় দুরুদ পাঠ করা যায়।
৬) দোয়া কবুলের সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া করা যায়।
৭) রাতের শেষাংশে অল্প সময়ের জন্য উঠে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়।
৮) সবথেকে বড় কথা, অতিমাত্রায় দোয়া, দুরুদ- যিকির, ইস্তেগফার পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং নেকির পাল্লা ভারি করা যায় যা নাজাতের পথ।

উল্লেখ্য, হায়েয-নেফাস অবস্থায় কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করা জায়েয নেই। নিয়মিত আমল হিসেবেও সূরা ইয়াসিন, ওয়াকিয়া ইত্যাদি পড়া যাবে না। পত্রিকার ঐ কথাটি ঠিক নয়।

হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত,  ঋতুমতী মহিলা এবং যার উপর গোসল ফরয হয়েছে তারা যেন সামান্য পরিমাণও কুরআন তিলাওয়াত না করে।

অবশ্য ফকীহগণ বলেছেন, যে সকল আয়াতে দুআর অর্থ রয়েছে তা দুআ হিসেবে পড়া যাবে। যেমন,

ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار

ইত্যাদি।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৩১; ইলাউস সুনান ১/৩৭৬; শরহুল মুনইয়াহ, পৃষ্ঠা : ৫৭; রদ্দুল মুহতার ১/২৯৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ ৭৭

[ হায়েজ অবস্থায় নারীদের কষ্ট হলেও, মুখে যত বেশি দোয়া, দুরুদ, যিকির ইস্তেগফার পাঠ করা যায়, যা পবিত্র থাকা অবস্থায় কখনোই সম্ভব হয় না]

যুবতীদের হায়েজ সর্বনিম্ন ৩ দিন থাকার কথা। এই ৩ দিন যদি সে শুধুই ইস্তেগফার করে তাহলে একে তো আল্লাহর ভালোবাসা পেলোই, তাছাড়া আল্লাহর ক্ষমার দ্বারা নিজেও পবিত্র হয়ে যেতে পারল। কারণ, আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে, তার বান্দা টানা ৩ দিন ইস্তেগফার করবে অথচ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করবেন না।

৩ দিন একটানা দুরুদ পাঠ করলে কতবার রহমত বর্ষণ হবে চিন্তা করতে পারেন?

একবার দুরুদ পাঠ করলে ১০ বার রহমত নাযিল হয়। তাহলে ৩ দিনে ৩০০০ বার দুরুদ পাঠ করলে রহমত বর্ষণ হয়, ৩০০০*১০=৩০,০০০ বার অর্থাৎ ৩০ হাজার বার।
৩০ হাজার বার যদি রহমত বর্ষিত হয় তাহলে আপনার অবস্থান ৩ দিনে কোথায় যাওয়ার কথা? চিন্তা করেছেন?
আপনি তো রহমতের সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকবেন।

আপনি যদি ৩ দিনে ৩০০০ বার তাসবিহ পড়েন। তাহলে কতো নেকি আসে? ৩০০০*১০=৩০,০০০ নেকি।

এটা কি কোন বুদ্ধিমান ত্যাগ করে? হায়েজকেও কাজে লাগাতে হবে বুদ্ধি দিয়ে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে মা- বোনদেরকে এভাবে আমল করার তৌফিক দিন, আমিন!


পরিচালক, মাদরাসতুস সুফফা আদ-দীনিয়া ঢাকা।