আধুনিক মাসায়েল

মহিলাদের নামাযে দাঁড়ানোর পদ্ধতি

  Mahbub ২৩ আগস্ট ২০২১ , ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

মহিলারা নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় দুই পা কিভাবে রাখবে? দুই পায়ের গোড়ালি একত্রিত রেখে সামনে( বৃদ্ধাংগুলীর দিকে) চার আঙ্গুল ফাঁকা রাখবে? নাকি দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিকে একত্রে রাখবে?

দাঁড়ানোর সময় উভয় পা গোড়ালী ও সামনের আঙ্গুল সবটাই মিলিয়ে রাখবে।

গোড়ালী মিলানো আর সামনের আঙ্গুল ফাঁকা রাখবে না। এটা ভুল পদ্ধতি।

عن ابن عباس أنه سئل عن صلاة المرأة، فقال : “تجتمع وتحتفز”(رواه ابن أبي شيبة ورجاله ثقات)

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, মহিলা কীভাবে নামায আদায় করবে? তিনি বললেন, খুব জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায় আদায় করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১/৩০২)

এর রাবীগণ সকলে বিশ্বস্ত।

নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় ১১টি সুন্নত

১। উভয় পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো। বিজ্ঞ ইমামদের গবেষণা মতে, পুরুষদের উভয় পায়ের মধ্যে নিম্নে চার আঙুল, ঊর্ধ্বে এক বিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখা হবে স্বাভাবিক পরিমাণ। (বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, হাদিস : ৩০৪ সহিহ)

নারীরা উভয় পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে রাখবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ১/২৭০, হাদিস : ২৭৯৪)

২। তাকবিরে তাহরিমার সময় চেহারা কিবলার দিকে রেখে নজর সিজদার স্থানে রাখা এবং হাত ওঠানোর সময় মাথা না ঝোঁকানো। (মুস্তাদরাকে হাকেম ১/৪৭৯, হাদিস : ১৭৬১ সহিহ, তিরমিজি ১/৬৬, হাদিস : ৩০৪ সহিহ)

৩। উভয় হাত কান পর্যন্ত ওঠানো। অর্থাৎ উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতি পর্যন্ত ওঠানো। (মুসলিম শরিফ ১/১৬৮, হাদিস : ৩৯১)

নারীরা তাদের হাত কাঁধ পর্যন্ত ওঠাবে ও কাপড়ের ভেতর থেকে হাত বের করবে না। (তিরমিজি ১/২২২, হাদিস : ১১৭৩ সহিহ, তাবরানি কাবির ৯/১৪৪, হাদিস : ১৭৪৯৭)

৪। হাত ওঠানোর সময় আঙুলগুলো ও হাতের তালু কিবলামুখী রাখা। (তিরমিজি ১/৫৬, হাদিস : ২৪০ সহিহ, তাবরানি আউসাত ৮/৪৪, হাদিস : ৭৮০১)

৫। আঙুলগুলো স্বাভাবিক রাখা অর্থাৎ একেবারে মিলিয়ে না রাখা, আবার বেশি ফাঁকও না রাখা। (মুস্তাদরাক হাকেম, হাদিস : ৮৫৬)

৬। ইমামের তাকবিরে তাহরিমা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে মুক্তাদির তাকবিরে তাহরিমা বলা। তবে যেন ইমামের তাকবিরে তাহরিমার আগে মুক্তাদির তাকবিরে তাহরিমার নিঃশ্বাস শেষ না হয়, তা লক্ষ রাখতে হবে। এরূপ হলে মুক্তাদির নামাজ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। (বুখারি ১/১০১, হাদিস : ৭৩৪, মুসলিম, হাদিস : ৪১৪)

৭। হাত বাঁধার সময় ডান হাতের তালু বাঁ হাতের পিঠের (পাতার) ওপর রাখা। (নাসায়ি শরিফ ১/১০২, হাদিস : ৮২৮)

৮। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা গোলাকার বৃত্ত বানিয়ে বাঁ হাতের কবজি ধরা। (তিরমিজি ১/৫৯, হাদিস : ২৫২, নাসায়ি ১/১০২, হাদিস : ৮৮৬, ইবনে মাজাহ ১/৫৬, হাদিস : ৮১১, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ১/৩৪৩, হাদিস : ৩৯৪২)

৯। ওপরের ৮ নম্বরে উল্লিখিত হাদিসের আলোকে বিজ্ঞ ইমামরা বলেন, অবশিষ্ট তিন আঙুল বাঁ হাতের ওপর স্বাভাবিকভাবে বিছিয়ে রাখবে। নারীরা ডান হাতের তালু বাঁ হাতের পিঠের ওপর স্বাভাবিকভাবে রাখবে। পুরুষের মতো শক্ত করে ধরবে না।

১০। নাভির নিচে হাত বাঁধা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ১/৩৯০, হাদিস : ৩৯৫৯)

নারীরা তাদের হাত ওড়নার ভেতরে (বুকের ওপর) রাখবে। (তিরমিজি ১/২২২, হাদিস : ১১৭৩)

১১। ছানা পড়া। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭৭৫, ৭৭৬)