1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
মসজিদে ঘুমানো নিষেধ | কওমী ভয়েস

মসজিদে ঘুমানো নিষেধ

  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮৫ জন দেখাছেন

আম্মা জান হযরত আয়শা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক মহিলা ইসলাম গ্রহণ করলো, তারপর মহিলাটি ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁর থাকার জন্য মসজিদে একটি তাবু খাটানো হল। -সহীহ বুখারী হা. নং ৪৩৯

অপর হাদীসে হযরত সাহল ইবনে সা‘দ রা. বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  হযরত ফাতেমার ঘরে এসে আলীকে রাযি. পাননি। জিজ্ঞেস করলেন, আলী কোথায়? ফাতেমা বললেন, আমাদের দু’জনে মধ্যে কিছু রাগারাগি হয়েছে। ফলে তিনি রাগ করে এখানে বাইরে চলে গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজনকে বললেন, তাকে একটু খুঁজে দেখ কোথায়। লোকটি এসে জানাল, আলী মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ সা. এসে দেখলেন আলী শুয়ে আছেন। শরীর এক পাশ থেকে চাদর পড়ে গেছে। আর গায়ে ধুলো-বালি লেগে রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর গায়ের বালি ঝেঁড়ে দিচ্ছেন আর বলছেন ‘আবু তোরাব উঠ উঠ। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৪১,৪৩০

বুখারী শরীফের আরেক হাদীসে হযরত আব্বাদ বিন তামীম তার চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি দেখেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৭৫, ৪৬৩

উপরে উল্লেখিত হাদীস সমূহ থেকে বুঝা গেল, মসজিদে থাকা ও ঘুমানো এটি কোন দোষনীয় বিষয় নয়। বরং মসজিদে ঘুমানোর অনেক প্রমাণ হাদীসে বিদ্যমান। মসজিদে তো কেউই ঘুমাতে যায় না। তাহলে এ সাইনবোর্ড কার জন্য?

আপনারা বিভিন্ন মসজিদসমূহে লক্ষ করলে দেখবেন, মারাত্মক কায়িক পরিশ্রমে ক্লান্ত কিছু মানুষ, ঢাকার বাইরে থেকে আসা কিছু পথিক-মুসাফির বা দুনিয়ার সব দিক থেকে হতাশ হয়ে আল্লাহর ঘরে আশ্রয় নেয়া কিছু মানুষ- জোহরের নামাজ বা আসরের নামাজের পর জিকির করে একটু আরাম করছে, কারও হয়তো চোখ লেগে গেছে। কেউ আবার তন্দ্রায় গেছে। মসজিদ কমিটির ভাষায় এটিই মসজিদের ঘুম, এটিই নিষেধ। এ জন্যই সাইনবোর্ড দেয়া। কমিটির নির্দেশে মসজিদের খাদেম বা মুয়াজ্জিন সাহেবের চেঁচামেচিতে আল্লাহর ঘরে আশ্রয় নেয়া বেচারা আতঙ্কিত হয়ে কোনো রকম ইজ্জত নিয়ে পালান।

ইসলামী ইতিহাস থেকে আমরা কতটা দূরে! অথচ ইসলামের ইতিহাস পড়ে দেখুন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদ ছিল মদিনা রাষ্ট্রের পার্লামেন্ট, আইনসভা, প্রধান বিচারালয় ও সরাকারি ট্রেজারি। তদুপরি ছিল বিদেশি মেহমানদের জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন, পথিক-মুসাফির, গৃহহীন শরণার্থীদের আশ্রয় শিবির, অভাবগ্রস্তদের ত্রাণকেন্দ্র।

হাজার কোটি আফসোস আর আফসোস! আমরা মসজিদ থেকে ঘোষণা দিয়ে মুসল্লিদের বের করে দিচ্ছি। এটি কেমন ইসলাম! এর নাম তো ইসলাম হতেই পারে না।

একবার ভালোভাবে ভাবুন ‘মসজিদে ঘুমানো নিষেধ’ সাইনবোর্ডের আড়ালে আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেয়া বান্দাদের আল্লাহর ঘর থেকে বের করে দেয়ার অনুমতি ধর্মে নেই।

আসুন, আমরা আসল ইসলাম জানি, বুঝি আমল করি। আল্লাহ তাওফিক দান করুন। আমীন।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস