1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
মন থেকে নয় ব্যাঙ্গ করে তিন তালাক | কওমী ভয়েস

মন থেকে নয় ব্যাঙ্গ করে তিন তালাক

  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৬ জন দেখাছেন
ছবি: কওমী ভয়েস

জিজ্ঞাসাঃ একটা গল্প বলি, আব্দুল্লাহ তার স্ত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়ার মাঝে আব্দুল্লাহর স্ত্রী তাকে বলছে, তুই আমারে তালাক দে,  বেশি উত্তেজিত হয়ে তারপর আব্দুল্লাহ স্ত্রীকে থামানোর বা বুঝানোর জন্য তালাক শব্দটি ব্যঙ্গ করে বলেছে। তিনের অধিক একাধিকবার। oiযাতে তাফ স্ত্রী চুপ হয়ে যায়। আব্দুল্লাহ তার স্ত্রীকে প্রকৃতভাবে তালাক দেওয়ার জন্য একাধিকবার বলেনি।

উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহর জানে নেই যে, তালাক শব্দটি ব্যঙ্গ করে বললে তালাক হয়ে যাবে। যদি জানতো, তাহলে ব্যঙ্গ করেও তালাক দিতো না। আব্দুল্লাহর স্ত্রী দুইটি সন্তানের জননী। প্রথম সন্তানটির বয়স ৩ বছর। দ্বিতীয় সন্তানের বয়স ১ বছর।

এখন, আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রীর মনের আকাঙ্খা আবার একসাথে সংসার করা। যেহেতু স্বামীর তালাক দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। এখন উভয়ের শরীয়ত সম্মত করণীয় কী? আর কোন পদ্ধতি বা সুযোগ আছে কি না? সহজ একটি হালালা বা পদ্ধতি বলে দিলে উপকৃত হতাম।

সমাধানঃ “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তিন বিষয় এমন,যা ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল,তালাক,বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা।” তালাক কোন খেলনা বা ভয় দেখানোর জিনিস নয়। এটি খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। ঠাট্টাচ্ছলে কাউকে খুন করলে যেমন খুন হয়ে যায়। তেমনি ঠাট্টাচ্ছলে কাউকে তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়।

অতএব, আব্দুল্লাহর স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে গেছে। আব্দুল্লাহর জন্য তার সেই স্ত্রী এখন হারাম। কেবল মাত্র এখন যদি আব্দুল্লাহর স্ত্রীর যদি অন্য কোথাও বিয়ে হয়। সেখানে ঘরসংসার করে। শারিরীক সম্পর্কও হয়। তারপর কোন কারণে দ্বিতীয় স্বামী মারা যায়, বা দ্বিতীয় স্বামী তালাক প্রদান করে, তাহলে ইদ্দত শেষে আব্দুল্লাহ উক্ত স্ত্রীলোককে  নতুন মোহর ধার্য করে আবার বিয়ে করতে পারবেন। এছাড়া দ্বিতীয় কোন গত্যান্তর নেই।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: الطَّلَاقُ، وَالنِّكَاحُ، وَالرَّجْعَةُ “

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তিন বিষয় এমন,যা ইচ্ছেকৃত করলে ইচ্ছেকৃত এবং ঠাট্টা করে করলেও ইচ্ছেকৃত বলে ধর্তব্য হয়। তা হল,তালাক,বিবাহ এবং তালাকে রেজয়ীপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৯, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৯৪

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٢:٢٣٠]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়,তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে,তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়,তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। -সূরা বাকারা-২৩০
হাদীস শরীফে এসেছে-
وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাযি. এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে ‎তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,‎তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। ‎কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। ‎যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। -সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস