1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
মনের অজান্তে কুফরী কথা বলায় ব্যক্তি কি মুরতাদ হয়ে যায়? | কওমী ভয়েস
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

মনের অজান্তে কুফরী কথা বলায় ব্যক্তি কি মুরতাদ হয়ে যায়?

Reporter Name
  • আপডেট সময়: রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৩০ জন দেখাছেন

জিজ্ঞাসাঃ আমরা দৈনন্দিন জীবনে কথা-বার্তার সময় নিজের অজান্তে বা অনেক সময় জেনে বুঝেও এমন অনেক বাক্য বলে থাকি, যার মাধ্যমে আমরা কুফরী এবং শিরকে লিপ্ত হয়ে যাই। এর ফলে আল্লাহ্‌ পাক কি আমাদের জাহান্নামে দিবেন? আর এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি হবে?

সমাধানঃ ঈমান অনেক মূল্যবান সম্পদ। ঈমান এমন উত্তরাধিকারী সম্পদ নয় যে কারো বাপ-দাদারা ঈমানদার মুসলিম হলে সন্তান-সন্ততি ও বংশধররাও মুসলিমই থাকবে, চাই সে যতই ঈমানবিরোধী চিন্তা-বিশ্বাস ও কথায়-কর্মে জড়িত থাকুক। ঈমান অনেকগুলো আকিদা-বিশ্বাসের সমষ্টি। এগুলো বহির্ভূত কোনো বিশ্বাস, চেতনা বা কথায়-কাজে জড়ালে ঈমান থাকে না; সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যায়। অজু ভঙ্গের কারণ পাওয়া গেলে যেরূপ অজু ভেঙে যায়, তদ্রূপ ঈমান ভঙ্গের কারণ পাওয়া গেলেও ঈমান ভেঙে যায়। এমনকি সব অস্বীকারের প্রয়োজন নেই, বরং একটিমাত্র ঈমান ভঙ্গের কারণ পাওয়া যাওয়াই কাফের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যেমন—অজু হওয়ার জন্য অজুর সব ফরজ পালন জরুরি, কিন্তু তা ভাঙার জন্য অজুভঙের সব কারণ পাওয়া জরুরি নয়, যেকোনো একটি কারণ দ্বারাই অজু ভেঙে যায়। ঈমান এমন কোনো শক্ত পাথর নয় যে আপনি যতই ঈমানে আঘাত করবেন, আর ঈমানের দাবি করতে থাকবেন—আপনার ঈমান ভাঙবে না। এ তো অজু ভঙ্গের কারণ পাওয়ার পরও অজু থাকার দাবি করার মতো।

দেখুন, এমতাবস্থায় ঈমানবিরোধী বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে এসে তাওবা না করে সে মারা গেলে কাফের হিসেবেই মারা গেল। দুনিয়ায় মুসলিমরা তার সঙ্গে কাফেরের মতো আচরণ করবে এবং তার জন্য পরকালে রয়েছে চির জাহান্নাম। এ ফিতনার যুগে ঈমানের ওপর টিকে থাকা কঠিন। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘এমন এক যুগ আসবে, যখন দ্বিনের ওপর অটল থাকা হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখার মতো কঠিন হবে।’ -তিরমিজি, হাদিস : ২২৬০

উল্লেখ্য, অজ্ঞতার কারণে কুফরী কথা বলার দ্বারা ব্যক্তি কাফের হয় না। তবে মারাত্মক গোনাহগার হয়। এক্ষেত্রে দ্রুত তওবা করা আবশ্যক। তওবা করলে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন।

ومن تكلم بها (كلمة الكفر) مخطئا، أو مكرها لا يكفر عند الكل (البحر الرائق، كتاب السير، باب أحكام المرتدين-5/210)

وما كان خطأ من الألفاظ، ولا توجب الكفر، فقائله مؤمن على حاله، ولا يؤمر بتجديد النكاح، ولكن يؤمر بالاستغفار والرجوع عن ذلك والله أعلم (المحيط البرهانى، كتاب السير، الفصل الثانى والأبربعون-7/399، رقم-9183، الفتاوى التاتارخانية-7/283، رقم-10496)

عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: تجاوز الله عن أمتى الخطأ، والنسيان، وما استكبر هو عليه (المستدرك للحاكم، قديم-2/216، جديد-3/1058، رقم-2801، سنن ابن ماجه-147، رقم-2043، صحيح ابن حبان-6/374، رقم-7228)

والله اعلم بالصواب

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন কওমী ভয়েস