1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
  2. muftimahbub454@gmail.com : কওমী ভয়েস : কওমী ভয়েস
ভূমিকম্প কেন হয়? | কওমী ভয়েস
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

ভূমিকম্প কেন হয়?

কওমী ভয়েস
  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
  • ৪ জন দেখাছেন

বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়। কোথাও তীব্রতা বেশি, কোথাও কম। তবে যেমনই হোক, ভূমিকম্প হলো মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। যেন মানুষ তাওবা করে মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে। নিজেদের আচার-আচরণ শুধরে নেয়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দোয়া করে। আল্লাহকে অনেক বেশি স্মরণ করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন : “(আসলে) আমি ভয় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আজাবের) নিদর্শনসমূহ পাঠাই” -সূরা ইসরা : ৫৯

“অচিরেই আমি আমার (কুদরতের) নিদর্শনসমূহ দিগন্ত বলয়ে প্রদর্শন করবো এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও (তা আমি দেখিয়ে দিবো), যতোক্ষণ পর্যন্ত তাদের উপর এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এই (কুরআনই মূলত) সত্য; একথা কি যথেষ্ট নয় যে, তোমার মালিক সবকিছু সম্পর্কে অবহিত?” -সূরা হা-মীম আস সিজদা : ৫৩

“বল : আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর, তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে) অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।” -সূরা আল আনআম : ৬৫

আল-বুখারী তার সহীহ বর্ণনায় জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : যখন “তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে)” নাযিল হলো তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: “আমি তোমার সম্মুখ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”, অথবা যখন, “অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম” নাজিল হলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : “আমি তোমার সম্মুখ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”। -সহীহ আল বুখারী, ৫/১৯৩

আবূল-শায়খ আল-ইস্পাহানি এই আয়াতের তাফসিরে বর্ণনা করেন, “বল : আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর, তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে)” যার ব্যাখ্যা হলো, তীব্র শব্দ, পাথর অথবা ঝড়ো হাওয়া; “অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম”, যার ব্যাখ্যা হলো, ভূমিকম্প এবং ভূমি ধসের মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরে
ঢুকে যাওয়া। নিঃসন্দেহে বর্তমানে যে সকল ভূমিকম্পগুলো ঘটছে তা মহান আল্লাহর প্রেরিত সতর্ককারী নিদর্শনগুলোর একটি যা দিয়ে তিনি তাঁর বান্দাহদের ভয় দেখিয়ে থাকেন।

এই ভূমিকম্প এবং অন্যান্য সকল দুর্যোগগুলো সংগঠিত হওয়ার ফলে অনেক ক্ষতি হচ্ছে, অনেকে মারা যাচ্ছে এবং আহত হচ্ছে; এই দুর্যোগগুলো আসার কারণ হচ্ছে, শিরকী কার্যকলাপ (ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্য কাউকে মহান আল্লাহর অংশীদার বানানো) এবং মানুষের পাপ (মহান আল্লাহ যে কাজগুলো করতে নিষেধ করেছেন সে কাজগুলো করার কারণে)।

এ ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ বলেন : “(হে মানুষ) যে বিপদ-আপদই তোমাদের উপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই, এবং (তা সত্ত্বেও) আল্লাহ তাআলা তোমাদের অনেক (অপরাধ এমনিই) মাফ করে দেন।”-সূরা আশ শূরা : ৩০

“যে কল্যাণই তুমি লাভ কর (না কেন, মনে রেখো), তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, আর যেটুকু অকল্যাণ তোমার উপর আসে তা আসে তোমার নিজের থেকে”। -সূরা আন নিসা : ৭৯

মহান আল্লাহ অতীত জাতির উপর প্রেরিত আজাব সম্পর্কে বলেন : “অতপর এদের সবাইকে আমি (তাদের) নিজ নিজ গুণাহের কারণে পাকড়াও করেছি, এদের কারো উপর প্রচ- ঝড় পাঠিয়েছি (প্রচ- পাথরের বৃষ্টি) {যেভাবে লূত জাতির উপর প্রেরণ করা হয়েছিল}, কাউকে মহাগর্জন এসে আঘাত হেনেছে {যেভাবে শুআইব (আ.)-এর জাতির উপর আঘাত হেনেছিল}, কাউকে আমি জমিনের নীচে গেড়ে দিয়েছি {যেভাবে কারুন জাতিদের উপর এসেছিল}, আবার কাউকে আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি {নূহ জাতী ও ফেরাউন ও তার লোকদেরকে যেভাবে ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল}, (মূলত) আল্লাহ তাআলা এমন ছিলেন না যে তিনি এদের উপর জুলুম করেছেন, জুলুম তো বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর করেছে”। -সূরা আল আনকাবূত : ৪০

এখন মুসলমানদের এবং অন্যান্যদের খুবই আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর নিকট তওবা করা উচিত, আল্লাহর কর্তৃক নির্দিষ্ট একমাত্র দ্বীন ইসলামকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহ তাআলা যেসব শিরকী কার্যকলাপ ও পাপ কাজ করতে নিষেধ করেছেন যেমন: (নামাজ পরিত্যাগ না করা, জাকাত আদায় করা থেকে বিরত না হওয়া, সুদ-ঘুষ না খাওয়া, মদ পান না করা, ব্যভিচার না করা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা না করা, গান ও বাদ্যযন্ত্র না শোনা, হারাম কাজসমূহ ভঙ্গ না করা প্রভৃতি) তা থেকে বিরত থাকা। এটা হতে আসা করা যায়, তারা এই দুনিয়া ও পরবর্তীতে কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পাবে এবং আল্লাহ তাদের আজাব থেকে নিরাপদে রাখবেন এবং তাদের উপর রহমত বর্ষণ করবেন।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: “অথচ যদি সেই জনপদের মানুষগুলো (আল্লাহ তাআর উপর) ঈমান আনতো এবং (আল্লাহ তাআলাকে) ভয় করতো, তাহলে আমি তাদের উপর আসমান-জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু (তা না করে) তারা (আমার নবীকেই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, সুতরাং তাদের কর্মকা-ের জন্য আমি তাদের ভীষণভাবে পাকড়াও করলাম”।-সূরা আল আ’রাফ : ৯৬

এবং আল্লাহ আহলে কিতাবধারীদের সম্পর্কে বলেন: “যদি তারা তাওরাত ও ইনজিল (তথা তার বিধান) প্রতিষ্ঠা করতো, আর যা তাদের উপর তাদের মালিকের কাছ থেকে এখন নাজিল করা হচ্ছে (কুরআন) তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতো, তাহলে তারা অবশ্যই রিজিক পেতো তাদের মাথার উপরের (আসমান) থেকে ও তাদের পায়ের নীচের (জমিন) থেকে”। -সূরা আল মায়িদা : ৬৬

এবং আল্লাহ আরো বলেন : “(এ) লোকালয়ের মানুষগুলো কি এতই নির্ভয় হয়ে গেছে (তারা মনে করে নিয়েছে), আমার আজাব (নিঝুম) রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে!

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
Theme Customized BY QawmiVoice