আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনে হামলা, কেন একশন নিচ্ছে না তুরস্ক?

  Mahbub ১২ মে ২০২১ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান আসলেই ইসরাইল নামক ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্রটি’ মুসলমানদের ওপর তার বর্বরোচিত হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।  আর মুসলিম বিশ্ব নীরব হয়ে দেখতে থাকে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ফিলস্তিনি, নারী, পুরুষ, শিশু, যুবক বৃদ্ধসহ বহু মানুষ।

আবারও রমজান। আবারও মসজিদে আকসা। আবারও সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলছে ইসরাইলের বর্বর হামলা।

ইসরাইল সেই ১৯৪৮ সাল থেকেই ফিলিস্তিনিদের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে।  বিরামহীনভাবে চলছে সেই হামলা নির্যাতন।

প্রতিদিনই কোনো না কোনো ফিলিস্তিনিকে ঘর থেকে বের করে তার ঘর বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।  কারো ভিটে মাটি কারো বা ফসলের জমি কেড়ে নিচ্ছে ইসরাইল।

আর যে কজনও নিজেদের ভিটে-মাটিতে বাস করছেন তাদের বসতবাড়ির চারিদিকে বিশাল উঁচু দেয়াল তৈরি করে সেগুলোকে এক রকম বন্দিশালায় পরিণত করে রেখেছে।

এ নিয়ে মালায়শিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ খুব চমৎকার একটা কথা বলেছিলেন।  আঙ্কারায় আমি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম।

মাহাথির মোহাম্মাদ বলেন, “পৃথিবীর সকল সন্ত্রাসের মূলেই হচ্ছে ইসরাইল।  ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে, সেখানের ৯০ ভাগ আরব জনগণকে উৎখাত করে ইসরাইলের নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টিই হচ্ছে আধুনিক সন্ত্রাসবাদের শুরু। ইসরাইলকে থামাতে না পারলে সারা দুনিয়াকে সন্ত্রাস মুক্ত করা যাবে না। কারণ ইসরাইল হচ্ছে সারা দুনিয়ার সন্ত্রাসের মূল উৎস।”

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটা সত্য যে এই বাস্তবতাটা আরব বিশ্বের নেতারা এখনও বুঝলেন না, বা বুঝতে চাইলেন না। অথবা বুঝেও না বোঝার ভান করে রইলেন। তা না হলে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মিশর, কুয়েত, জর্ডানসহ আরও যেসব আরব দেশ আছে।  তারা কেন নিষ্ক্রিয়?

এ নিয়ে ফিলিস্তিনিদেরও অভিযোগের শেষ নেই। যে আরব বিশ্বের প্রতি তাকিয়ে আছে ফিলিস্তিনি মাজলুম জনতা সেই আরবরাই ফিলিস্তিনিদের দিকে মুখ তুলে তাকায় না।
এ নিয়ে ফিলিস্তিনি একাডেমিশিয়ান ড. আলী রেজেগ তার হতাশা এবং ক্ষোভের কথা আমার কাছে এভাবে ব্যাক্ত করেন, “দুর্ভাগ্যজনক হলো, আমরা আরব দেশগুলো থেকে যা প্রত্যাশা করেছিলাম সেভাবে কোনো পদক্ষেপেই নেয়নি তারা। ফিলিস্তিনিদের ওপর এবং আল আকসা মসজিদে হামলার বিরুদ্ধে  শুধুমাত্র  দু-তিনটি দেশে  বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

‘আমরা ফিলিস্তিনিরা আরব দেশগুলো থেকে আরো বেশি সহযোগিতা আরো বেশি একশন প্রত্যাশা করছি। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র  জর্দান, সিরিয়া, লেবানন,  মিশর এবং  আলজেরিয়া থেকে । আমরা মনে করি সব আরব দেশ এবং মুসলিম দেশের ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। ফিলিস্তিনিদের এবং আল আকসা মসজিদ রক্ষায় তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করা দরকার।”

কিন্তু কী করছে এই আরব বিশ্ব? ইসরাইলের সাথে রঙ্গলীলায় ব্যাস্ত।  অথচ প্রতিদিন জুলুম নির্যাতন হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের ওপর।  হত্যা, হামলা, মামলা, উচ্ছেদ, ধরপাকড় সব কিছুই চলে সেখানে। অথচ এই বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করেছেন না, কেউ কিছু বলেছেন না?

শুধু আরব নেতারা না, প্রায় সব মুসলিম দেশের নেতারা তাদের গদি রক্ষায় ব্যাস্ত। ইসরাইলের বিপক্ষে সত্যিকার অর্থেই কোন পদক্ষেপ নিলে তাদের গদি হারানোর ভয় আছে যে? আর মুসলিম বিশ্বের সর্ব বৃহৎ সংস্থা ওআইসি। এটি তো একটি নাম সর্বস্ব সংগঠন। যে ওআইসির জন্মই হয়েছিল মসজিদে আকসা এবং ফিলিস্তিনের জন্য সেই প্রতিষ্ঠানটি গত ৫২ বছরে ফিলিস্তিনের জন্য কিছুই করলো না!

লোক দেখানো কিছু মিটিং ফিটিং আর দায়সারা গোছের বিবৃতি দিয়েই নিজের কর্তব্য পালন করলো। আর গত এক দশকে তো নেতৃত্বের লড়াইয়ে আরও অকেজো হয় পড়েছে এই সংগঠনটি।ওআইসিতে তুরস্কের নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি সৌদি আরব। তাই ইচ্ছা করেই, তুরস্কের নেতৃত্বে থাকাকালীন ওআইসিকে মূলত নিষ্ক্রিয় করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

এখন তুরস্ক নতুন করে এটিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে কিন্তু আসলে লোক দেখানো কিছু মিটিং ছাড়া কার্যকরী কোন ফল আসবে না ওআইসির সম্মেলন থেকে।

আর মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশ নিয়ে ডি-এইট নামক যে সংগঠনটি তৈরি করেন তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন এরবাকান। সেটিকেও সুকৌশলে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আরব লিগ তো আরেক নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, দ্বিমুখীনীতি, মুসলিম বিদ্বেষিতা, ইসলামোফবিয়া এগুলো তো নতুন কিছু না। যেমন হামলা হলো ফিলিস্তিনিদের ওপর, তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করা হলো। অথচ পশ্চিমা সেই তথাকথিত মানবাধিকারের ফেরিওয়ালারা সুন্দর করে দোষ চাপিয়ে দিলেন ওই নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের ওপর। ইউরোপ এবং আমেরিকার রাজনৈতিক নেতারা কি নির্লজ্জভাবে ফিলিস্তিনি সাধারণ জনগণকে দোষারোপ করলেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইদেন কয়েকদিন আগে তথাকথিত সেই আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতিদানকালে কী বলেছিলেন। “আমি মানবতার এবং মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছি।সুতরাং সারা বিশ্বে মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নিতেই এই পদক্ষেপ।”