1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
প্রকৃত আলেমই জাতির পথ প্রদর্শক | কওমী ভয়েস

প্রকৃত আলেমই জাতির পথ প্রদর্শক

  • আপডেট সময়: সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৪৬ জন দেখাছেন

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا قِیۡلَ لَکُمۡ تَفَسَّحُوۡا فِی الۡمَجٰلِسِ فَافۡسَحُوۡا یَفۡسَحِ اللّٰہُ لَکُمۡ ۚ وَ اِذَا قِیۡلَ انۡشُزُوۡا فَانۡشُزُوۡا یَرۡفَعِ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ ۙ وَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ دَرَجٰتٍ ؕ وَ اللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ﴿۱۱﴾
অর্থ: হে মুমিনগণ, তোমাদেরকে যখন বলা হয়, ‘মজলিসে স্থান করে দাও’, তখন তোমরা স্থান করে দেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্থান করে দেবেন। আর যখন তোমাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা উঠে যাও’, তখন তোমরা উঠে যাবে। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।

হযরত আবু মুসা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আমাকে যে জ্ঞান ও হেদায়াতসহ প্রেরণ করেছেন তার উপমা বারিধারার ন্যায় যা একটি জমির ওপর বর্ষিত হয়েছে। তার একটি অংশ ভালো যা পানিকে গ্রহণ করে নিয়েছে। ফলে তা বিপুল পরিমাণ ঘাস ও গাছ উৎপন্ন করেছে। এর একটা অংশ ছিল নিচু, সেখানে তা পানি আটকিয়ে নিয়েছে, আর  তা থেকে আল্লাহ লোকদেরকে উপকৃত করেছেন, তা থেকে তারা পান করেছে, জীবজন্তুকে পান করিয়েছে এবং পানি সেচ করে কৃষি কাজও করেছে। আবার এই বারিধারা এমন এক অংশে পৌঁছেছে যেটি ছিল অনুর্বর, সমতল ময়দান। তা পানি ধরে রাখতে পারেনি এবং তার ঘাস উৎপন্ন করার ক্ষমতাও নেই। প্রথমটি হচ্ছে ওই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত, যে আল্লাহর দীনের জ্ঞান লাভ করেছে এবং আল্লাহ যে জ্ঞান দিয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন তা থেকে সে লাভবান হয়েছে। কাজেই সে তা শিখেছে ও অন্যকে শিখিয়েছে। অপর দৃষ্টান্তটি হচ্ছে এমন এক ব্যক্তির, যে এই জ্ঞানের দিকে দৃষ্টি দেয়নি এবং আল্লাহ আমাকে  যে হেদায়াতসহ পাঠিয়েছেন তা গ্রহণ করেনি।’ বুখারী শরীফ

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা আলেমদের প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, এ জ্ঞান খোদাপ্রদত্ত। যারা এই জ্ঞানের অধিকারী হয়েছেন তিনি তাদের মর্যাদা উন্নীত করেছেন।

ওপরে উল্লিখিত হাদীসটিতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন ধরনের জ্ঞানী ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন।

১। দুই দল আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান লাভ করে লাভবান হয়েছে। তাদের একদল জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের সংশোধন করেছেন কিন্তু সাধারণ মানুষের সংশোধনের প্রতি দৃষ্টিপাত করেননি।

২। দলটি জ্ঞান দ্বারা নিজেরা লাভবান হবার সাথে সাথে অন্যদেরকে উপকৃত করেছেন। উদাহরণস্বরূপ এ উম্মতের বুযুর্গানে দীন।

৩। দল হলো তারা, যারা জ্ঞান পেয়েও নিজেদের সংশোধন করেনি ও তা থেকে উপকৃতও হয়নি।

বর্তমানে লক্ষ করলে আজ আমাদের ধর্মীয় সমাজে ওই তৃতীয় শ্রেণির জ্ঞানীদের সংখ্যাই মনে হয় বেশি। তারা ধর্মের জ্ঞানকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ধর্মে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে, ধর্মে নতুন রীতিনীতি প্রবেশ ঘটিয়েছে এবং ধর্মের নামে নানান অপকর্মও করে বসে।

কুরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা করে মানুষের মাঝে ফিতনা ও ফাসাদ এবং ঐক্যের তান ছিঁড়ে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিচ্ছে। যদিও এই সংখ্যাটা বেশি নয় কিন্তু গুটিকতক লোকদের জন্য সমাজের একটি বড় অংশকে এর মাশুলও দিতে হয়।

একটু চিন্তা করুন! আগে ওয়াজ মাহফিল থেকে ধর্মীয় কত সুন্দর সুন্দর বয়ান শুনে ঘরে ফিরতাম; কিন্তু এখন কি হচ্ছে? কেন জানি এখন আর ধর্মীয় বয়ানগুলোতে সেই আধ্যাত্মিক তৃপ্তি লাভ করি না। যুব সমাজ আজ নানান অপকর্মে লিপ্ত, নেশায় মত্ত হয়ে পিতামাতাকেও খুন করছে। প্রতিনিয়ত পারিবারিক কলহে কত সুখের ঘর ভেঙ্গে যাচ্ছে।

যুব সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনার জন্য এবং পরিবারগুলোকে শান্তিময় করার লক্ষ্যে একজন আলেম অনেক বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই যারা সমাজ সংস্কারের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, আসুন আমরা আমাদের যুবকদেরকে রক্ষা করি এবং পরিবারগুলোকে শান্তিময় করার লক্ষ্যে কাজ করি।

সর্বশেষ এটাই বলব, যার যেভাবে সুযোগ আছে পরিবার ও সমাজকে নিয়ে একটু ভাবি। একটি সন্তানও যেন নষ্ট না হয় সে বিষয়ে দৃষ্টি দেই। এ লক্ষ্যে আমাদেরকে ইসলামের সঠিক শিক্ষা আমাদের ওয়াজ-নসীহতে এবং জুমআর খুতবায় তুলে ধরতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা প্রচারের তৌফিক দান করুন, আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস