1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
পৃথিবীকে বিনির্মাণের সময় যৌবনকাল | কওমী ভয়েস

পৃথিবীকে বিনির্মাণের সময় যৌবনকাল

  • আপডেট সময়: শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৬৪ জন দেখাছেন

সৃষ্টির সেরা মানব জাতি। আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি জগতে সবচে প্রিয় মানুষ। আর মানুষের জীবনের তিনটি ধাপ, ১. শিশুকাল, ২. যৌবনকাল, ৩. বার্ধক্য। তন্মধ্যে যৌবনকাল হল পৃথিবীকে বিনির্মাণ করার সময়, একজন মানুষ পৃথিবীকে বিনির্মাণ করার জন্য যতটুকু সময় ব্যয় করে, ততটুকু সময়ই আসলে সে সঠিকভাবে ব্যয় করে,‌ তাছাড়া সে কেবল সময়কে অপচয়কারী হিসেবে পরিগণিত হবে।

মানুষ পৃথিবীকে বিনির্মাণ করার জন্য যতটুকু অবদান রাখে, সে আসলে তার জীবনের ততটুকু সময়ই বেঁচে থাকে। মহান রাব্বুল আলামীন মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে তিনটি সময়কে যথাক্রমে দুর্বল সময়, শক্তিশালী সময়, এবং দ্বিতীয় দুর্বল সময় বলে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ” আল্লাহই দুর্বল অবস্থা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেন, তারপর এ দুর্বলতার পর তোমাদের শক্তি দান করেন, এ শক্তির পর তোমাদেরকে আবার দুর্বল ও বৃদ্ধ করে দেন।” – সুরা রুম : ৫৪

মানব জীবনের প্রথম ধাপ শিশুকাল হলো, ‘তাকলিদের সময়’ বা অনুকরণের সময়। যৌবনকাল হল, ‘তাহকীকের সময়’ বা কোন কিছু জেনে-বুঝে-চিন্তা করে শেখা। আর বৃদ্ধকাল হলো, ব্যয় করার সময় আমরা যৌবনকালে যা অর্জন করব বার্ধক্যে এসে তা ব্যয় করব। যৌবনকালে যা শিখব বৃদ্ধকালে গিয়ে তা শেখাব। আমাদের জীবন নামক পুঁজির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল যৌবনকাল। একারণেই আল্লাহ তাআলা সকল নবীগনকে বাছাই করেছেন যুবকদের মধ্য হতে। এমন কোন নবী নেই যাকে বৃদ্ধ বয়সে নবী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেন তারা পৃথিবী টাকে সুন্দর ভাবে বিনির্মাণ করতে পারেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও ইসলাম গ্রহন করেছেন যুবকরা।

খুব ভালো করে দেখুন, হযরত আবু বকর রা. বয়স ছিল ৩৭, হযরত ওমর রা. ৩০ হযরত ওসমান রা. ৩৩ হযরত আলী রা. ৯ বছর বয়সী ছিলেন এবং ২০ বছর বয়সে পতাকা হাতে নিয়ে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এবং ইসলাম প্রসারিতও হয়েছে যুবকদের মাধ্যমে। তাহলে যুবশক্তি বিরাট একটি সম্ভাবনা। আবার কিন্তু তিনটি বিষয় যুবকদের কে ধ্বংস করে দেয়
১.অবসর সময়
২. অবসর মস্তিষ্ক
৩. অবসর অন্তর

উল্লেখ্য, আমাদের জীবনে অবসর সময় বলতে যেন কোন কিছু না থাকে, কেননা আমরা কিয়ামতের দিন এ ব্যাপারে বিশেষ ভাবে জিজ্ঞেসিত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের জীবনকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত দ্বারা পরিকল্পনা মাফিক করে দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের উচিত জীবন কে সাজিয়ে নেওয়া যাতে একটু সময়ও নষ্ট না হয়। আমাদের জন্য দ্বিতীয় বিপজ্জনক বিষয় হলো,

প্রিয় পাঠক, ফাঁকা (অলস ) মস্তিষ্ক। এই ফাঁকা মস্তিষ্ক কে ইলম, হিকমাহ, এবং মারিফাত দিয়ে ভরে নিতে হবে। এই তিনটি বিষয়ই কেবল আমাদের মস্তিষ্ককে পরিপূর্ণ ভাবে পূর্ণ করতে পারে। আজ আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যেখানে সবচেয়ে সহজ হল তথ্য আহরণ করা। যেকোনো তথ্য মূহুর্তেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তাই মস্তিষ্ক যেন শুধু অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ডাস্টবিনে পরিণত না হয় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের মস্তিষ্ককে কেবল কল্যাণকর, সুন্দর সঠিক জ্ঞানভাণ্ডারে পরিণত করতে হবে।

আর তৃতীয় যে জায়গাটি আমরা ফাঁকা রাখব না সেটা হল ক্বলব। সেই স্থান ক্ষণস্থায়ী ভালবাসা দিয়ে ভরে রাখব না। কখনোই অন্তরে পদ-পদবী ও লালসার স্থান বানাবো না।‌ অন্তরকে যশ-খ্যাতি পাওয়ার ভালবাসা দ্বারা পূর্ণ করব না। আজেবাজে মানুষকেও অন্তরে স্থান দিয়ে অন্তরের জায়গাকে নষ্ট করা যাবে না। এ অন্তর পূর্ণ থাকবে শুধু আল্লাহর ভালবাসা দ্বারা। যিনি আমাদের কে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।

সম্মানিত পাঠক, আমরা সবসময় তিনটি কিতাব কে বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করব ১. ইনসান (মানুষ) ২. মহাবিশ্ব ৩. কোরআন। আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের চেষ্টা করব। কারণ কোরআনের প্রথম তাফসির হলো মহাবিশ্ব। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস