1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা কি? | কওমী ভয়েস

ঢিলা কুলুখ ব্যবহার করা কি?

  • আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৯৪ জন দেখাছেন

ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব অনেক। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, والله يحب المطهرين আল্লাহ তাআলা পাক-পবিত্র লোকদের পছন্দ করেন। [সূরা তাওবা (৯) : ১০৮] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, الطهور شطر الإيمان পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৩) বিশেষ করে পেশাব থেকে পবিত্রতার বিষয়ে হাদীস শরীফে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

إن عامة عذاب القبر في البول، فتنزهوا من البول.

কবরের অধিকাংশ আযাব হবে পেশাবের কারণে। তাই পেশাব থেকে বেঁচে থাক। -মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমায়দ, হাদীস. ৬৪২; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৬৫৪

ইমাম নববী রাহ. বলেন, حديث حسن হাদীসটি হাসান। [খুলাসাতুল আহকাম ১/১৭৪ (৪০৩)]। হাফেয ইবনে হাজার রাহ. বলেন,  إسناده حسن  এর সনদ হাসান। -আত-তালখীসুল হাবীর ১/১১৩ (১৩৫)

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

اتقوا البول، فإنه أول ما يحاسب به العبد في القبر.

পেশাব থেকে বেঁচে থাক। কারণ কবরে বান্দাকে সর্বপ্রথম পেশাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। -মুজামে কাবীর, তবারানী ৮/১৫৭

হায়সামী রাহ. বলেন,  رجاله موثقون. এর রাবীগণ সিকাহ। -মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/২০৯   আল্লামা মুনাবী রাহ. বলেন,

مز المصنف لحسنه، وهو أعلى من ذلك.

সুয়ূতী রাহ. হাদীসটি হাসান হওয়ার আলামত দিয়েছেন। বাস্তবে হাদীসটির মান হাসানেরও ঊর্ধ্বে। -ফয়যুল কাদীর ১/১৩০ (১৩১)

সুতরাং পেশাব থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা শরীয়তে কাম্য। যুগের পরিবর্তনের কারণে মানুষের দৈহিক অবস্থা পরিবর্তন হয়। দেখুন না, মুহাজির সাহাবীগণ শুধু ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন। আলী রা. মুহাজির সাহাবীদের অন্যতম। তিনি মুহাজিরদের তুলনায় তাবেয়ীদের দৈহিক অবস্থার দুর্বলতা দেখে তাবেয়ীদের লক্ষ করে বললেন, তোমাদের পূর্বের লোকেরা পশুর মত (শক্ত) মল ত্যাগ করত। আর তোমরা পাখির মত (নরম) মল ত্যাগ কর। তাই তোমরা ঢিলা ব্যবহারের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা কর। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৬৩৪

আলী রা. যেমন তাবেয়ীদের অবস্থার প্রতি লক্ষ করে তাদের বললেন, তোমাদের জন্য শুধু ঢিলা ব্যবহার করলে চলবে না; বরং ঢিলার পর পানিও ব্যবহার করতে হবে, তদ্রূপ উম্মাহর ইমামগণ উম্মতের অবস্থার প্রতি লক্ষ করে দেখলেন যে, পেশাবের পর যদি উহ-আহ, উঠা-বসা, হাঁটা-হাঁটি ইত্যাদি না করে তাহলে অনেকের পেশাব থেকে পূর্ণরূপে পবিত্রতা অর্জন হয় না। তাই উম্মাহর ইমামগণ নায়েবে নবী হিসেবে তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, পেশাবের গতি বন্ধ হওয়ার পর উহ-আহ, উঠা-বসা, হাঁটা-হাঁটি ইত্যাদি করা অথবা কিছুক্ষণ জায়গায় বসে থাকা জরুরি, যেন পরে পেশাব ঝরে শরীর বা কাপড় নাপাক হওয়ার আশঙ্কা না থাকে।

হাঁটা-হাঁটি, উঠা-বসা, উহ-আহ এখানে মাকসাদ নয়। উদ্দেশ্য হল অবশিষ্ট পেশাব বের করে পূর্ণরূপে পবিত্রতা অর্জন করা।  এগুলো পবিত্রতার পরিপূরক। তাই এসব কাজ পবিত্রতারই অংশ। সুতরাং এসবের জন্য ভিন্ন দলীলের প্রয়োজন হয় না। বরং এর দলীল হিসেবে পবিত্রতার গুরুত্ব এবং বিশেষ করে পেশাব থেকে বেঁচে থাকার তাকিদ সম্পর্কে উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসসমূহই যথেষ্ট।

এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়। একটি ইস্তিঞ্জা অপরটি ইস্তিজমারইস্তিঞ্জা: ইস্তিঞ্জা হলো পেশাব ও পায়খানার রাস্তা থেকে নির্গত অপবিত্রতা পানি দ্বারা দূর করা। আর ইস্তিজমার হলো পেশাব ও পায়খানার রাস্তা থেকে নির্গত অপবিত্রতা পাথর বা কাগজ বা অনুরূপ জিনিস দ্বারা দূর করা।

বান্দার মধ্যে যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করাকে পছন্দ করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, وفيه رجال يحبون ان يتطهروا والله يحب المطهرين অর্থঃ-“তাতে (অর্থাৎ মসজিদে কুবায়) এমন লোক আছে যারা উত্তম রুপে পবিত্রতা অর্জন করাকে ভালোবাসে। এবং উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারিদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন”।–সূরা তাওবা, আয়াত নং১০৮

পক্ষান্তরে যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করেনা তাদের ব্যাপারে হাদীসে কঠিন হুশিয়ারী বর্ণিত হয়েছে।

عن ابن عباس، قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بحائط من حيطان المدينة، أو مكة، فسمع صوت إنسانين يعذبان في قبورهما، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «يعذبان، وما يعذبان في كبير» ثم قال: «بلى، كان أحدهما لا يستتر من بوله، وكان الآخر يمشي بالنميمة».

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনার কিংবা মক্কার কোন গলি অতিক্রম করছিলেন তখন দুই ব্যক্তির চিৎকার শুনতে পেলেন, যাদেরকে কবরে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাদের দুজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বড় কোন গুনাহের কারনে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তারপর বললেন,হ্যাঁ এটা তোমাদের দৃষ্টিতে বড় নয় কিন্তু আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তা বড় পাপ (কবীরা গুনাহ)। তাদের একজন ছিল এমন যে, সে প্রস্রাবের ফোটা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। অপরজন চগোলখুরী করে বেড়াতো। -বুখারী শরীফ ১/৩৫

আরেকটি হাদীসে এসেছে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত,

عن أبي هريرة , أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «استنزهوا من البول فإن عامة عذاب القبر منه» ـ سنن الدارقطني ، باب نجاسة البول والأمر بالتنزه منه والحكم في بول ما يؤكل لحمه

অর্থঃ- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা প্রস্রাবের ফোটা থেকে সতর্কতা অবলম্বন কর, কেননা কবরের অধিকাংশ শাস্তি এ কারণেই হয়ে থাকে।(সুনানে দারাকুতনি)

আমাদের জেনে রাখা ভালো যে, পেশাব-পায়খানার পর পবিত্রতা অর্জন করার তিনটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।

১। শুধু ঢিলা ব্যবহার করা অর্থাৎ কাযায়ে হাজতের পর শুধু ঢিলা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েয। এ বিষয়ে বহু হাদীস ও আছার বর্ণিত হয়েছে।

মুসলিম রাহ. বর্ণনা করেন, আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাহ. বলেন, সালমান ফারসী রা.-কে বলা হল, তোমাদের নবী তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতিও! আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ রাহ. বলেন, সালমান রা. বললেন, ‘হাঁ, অবশ্যই! তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, আমরা যেন ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি, ইস্তিঞ্জার সময় তিন পাথরের কম ব্যবহার না করি এবং গোবর বা হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি।’ বর্ণনাটির আরবী পাঠ-

عَنْ عَبْدِ الرّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: قِيلَ لَهُ: قَدْ عَلّمَكُمْ نَبِيكُمْ كُلّ شَيْءٍ حَتى الْخِرَاءَةَ قَالَ: فَقَالَ: أَجَلْ لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ، أَوْ بَوْلٍ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ.

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬২

আরো দেখুন : জামে তিরমিযী, হাদীস ১৬; সুনানে আবু দাঊদ, হাদীস ৭; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৭১৯

২। পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা অর্থাৎ কাযায়ে হাজতের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার বিষয়ে সাহাবা ও তাবেয়ীন-যুগে দু-একজনের ভিন্নমত থাকলেও পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো ইমামের মতবিরোধ নেই যে, কাযায়ে হাজতের পর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা যাবে; বরং উলামায়ে কেরাম বলেন, পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করাই উত্তম। তাই এ বিষয়ের দলীল পেশ করে আলোচনা দীর্ঘ করতে চাচ্ছি না।

৩। ঢিলা ও পানি উভয়টা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা অর্থাৎ কাযায়ে হাজতের পর ঢিলা ব্যবহার করে পানি দ্বারা ধোয়া কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

فِیْهِ رِجَالٌ یُّحِبُّوْنَ اَنْ یَّتَطَهَّرُوْا  وَ اللهُ یُحِبُّ الْمُطَّهِّرِیْنَ .

তাতে (কোবায়) এমন লোক আছে, যারা অধিকতর পবিত্রতা পছন্দ করে। আর আল্লাহ তাআলা অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের পছন্দ করেন। -সূরা তাওবা (৯) : ১০৮

আরও জানতে দেখুন- সূরা তাওবা, ১০৮, সহীহ বুখারী ১/৩৫, সুনানে দারাকুতনী হাদীস নং ৪৬৪, সুনানে তিরমিযী ১/১৪, নূরুল ইজাহ ৪৫

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস