1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
জিহ্বা যখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাধ্যম | কওমী ভয়েস
শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৩:০২ পূর্বাহ্ন

জিহ্বা যখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাধ্যম

মুফতী আবু বকর
  • আপডেট সময়: শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৪৭ জন দেখাছেন

আল্লাহ তাআলা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। দান করেছেন আমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ অসংখ্য নিয়ামত ও অনুগ্রহ। এর মধ্যে জিহ্বা অন্যতম। জিহ্বার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই আমাদের বুদ্ধি-বিবেচনা, ভালো-মন্দ এবং রুচি-অভিরুচির আভিজাত্যের প্রকাশ ঘটে। পক্ষান্তরে বহুমূল্য এ নিয়ামতের ভুল ব্যবহার আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ করে ফেলে এবং আমাদের প্রতিবেশীরাও এতে আন্তরিকভাবে আহত হয়।

সূরা বালাদে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি কি তার জন্য দুটি চোখ, একটি জিহ্বা এবং দুটি ঠোঁট সৃষ্টি করিনি?’ -বালাদ, আয়াত : ৮-৯

হযরত আলী রাযি. বলেন, ‘তরবারির আঘাতের মলম ও প্রতিষেধক আছে, কিন্তু জিহ্বার আক্রমণের প্রতিষেধক নেই।

মানুষ যে সকল ভুল করে তার অন্যতম হলো জিহ্বার মাধ্যমেই বড় বড় ভুল করা। এ জন্য বুদ্ধিমানরা বুঝেশুনে সঠিক পদ্ধতিতে জিহ্বার ব্যবহার করে। জিহ্বার ভুল ও অসঠিক ব্যবহার পরিহার করে উত্তম পদ্ধতিতে তা ব্যবহারকেই ‘জিহ্বার হেফাজত ও নিয়ন্ত্রণ’ আখ্যায়িত করা হয়। ইসলামী শরিয়তে জিহ্বার নিয়ন্ত্রণ ও হেফাজতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

হাদীস শরীফে হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি নিজের জিহ্বা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টিজনক ও সহানুভূতি অর্জনমূলক কথা বলত, কিন্তু এসব ভালো কথার গুরুত্ব সম্পর্কে সে ছিল বেখবর। এ পরিস্থিতিতেও আল্লাহ তার অজান্তেই তার উত্তম কথার দরুন তার সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। অন্যদিকে আরেকজন লোক আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এমন সব কথা বলত, অথচ সেদিকে তার কোনো খবরই ছিল না। আল্লাহ তাআলা এ লোককেও তার অজান্তেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন।-সহীহ বুখারী

কথা মানুষই বলে, তবে সব সময় আমাদের বুঝেশুনে কথা বলা উচিত। এর বিপরীতে অকারণে অতিরিক্ত কথা বলায় সমাজে আমাদের ব্যক্তিত্বের অবনতি ও অবক্ষয় হয়। জ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী তো সে যে চিন্তাভাবনা করে ও বুঝেশুনে জিহ্বার ব্যবহার করে। যেখানে সে জানবে যে এখানে তার কথা অমূল্যায়িত হবে সেখানে সে চুপ থাকবে। কেননা মুখ ফসকে বের হওয়া কথা এবং ধনুক থেকে ছুটে যাওয়া তীর কখনোই ফিরিয়ে আনা যায় না।

সে জন্যই কথা বলার পর আফসোসের পরিবর্তে আগে থেকেই চুপ থাকা শ্রেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে সে সর্বদা শুধু ভালো কথা বলবে, নয়তো চুপ থাকবে।-বুখারী ও মুসলিম

উল্লেখ্য, ঈমানদার ও বিশ্বাসীর কথাবার্তা সব সময় উত্তম এবং একই সঙ্গে প্রভাবপূর্ণ হয়। সে অনর্থক কথা ও কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অনর্থক কথাবার্তা পরিহার করা মানুষ উন্নত ইসলামের প্রমাণ। -মুয়াত্তা ইমাম মালেক

বুখারীতে হযরত আবু মুসা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! মুসলমানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তখন তিনি উত্তর দিলেন, যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে।-বুখারী

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, যে আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (লজ্জা) স্থানের জামানত দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব।-বুখারী

মহান আল্লাহ আমাদের জিহ্বা ও মুখ নিয়ন্ত্রণের তাওফিক দান করুন। আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন কওমী ভয়েস