1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
কুরআন অবলম্বনে নির্মিত নাটক সিনেমা দেখা হারাম | কওমী ভয়েস

কুরআন অবলম্বনে নির্মিত নাটক সিনেমা দেখা হারাম

  • আপডেট সময়: বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮৯ জন দেখাছেন

কুরআনুল কারীম আল্লাহ পাক আমাদের দান করেছেন তাঁর হুকুমাবলী মানার জন্য দিক নির্দেশনা হিসাবে। এ কুরআনে তিনি বিভিন্ন নবী-রাসূল ও আশ্চর্য জনক কিছু ঘটনাও উল্লেখ করেছেন, যাতে মানব জীবনে সে সব ঘটনা দ্বারা নসীহত গ্রহণের জন্য।

সেই সুবাদে কুরআনে বর্ণিত ‍বিভিন্ন ঘটনাবলী যেমন- হযরত ইউসুফ আ.-এর ঐতিহাসিক ঘটনা। ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ, মক্কাবিজয়, ফেরাউনের পানিতে ডুবে মরাসহ ইসলামের   অন্যন্যা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ সাথে সাথে মর্যদাপূর্ণও বটেও। বিশেষত: কুরআনে বর্ণিত ঘটনাগুলো আরোও বেশি গুরুত্ব রাখে।

ভালোভাবে মনে রাখতে হবে যে, এসব ঘটনার নাটক করা , দেখা , দেখানো কোনভাবেই জায়েয হবেনা। কেননা, তা কুরআন অবমাননার শামিল। যার কিছু দিক নিম্নে বর্ণনা করা হলো। যেমন-

এক. আল্লাহ পাক কুরআনে কারীম যে আযমত ও সম্মান দান করেছেন, আর কুরআনের দাবি তো হলো তাতে বর্ণিত সকল বিষয়বস্তুকে পূর্ণ আদব ও সম্মানের সাথে তার ভাষায় পড়া, শুনা ও শুনানো। এর ‍বিপরিতে নাটকনির্মাতাদের জন্য পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কোনো ঘটনাকে নাটকে রূপ দিয়ে তার ভাবার্থ বুঝানোর চেষ্টা করা কুরআনে নিষিদ্ধ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরতকারী “ লাহউ ওয়া লাইব” এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এরূপ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

দুই. ইসলামের নীতি হলো, কোনো প্রাণীর ছবি বানানো, দেখা, দেখানো সবই হারাম। আর কোন নাটকই ছবি মুক্ত হয়না। আর কুরআনের বিষয়বস্তুকে ছবির মাধ্যমে পেশ করা কুরআন অবমাননাও বটে ।

তিন. কুরআনে বর্ণিত যত ঘটনাবলী আছে সে সবের নাটক বানাতে গেলে এসব নাটকের পূর্ণতা নারীদের ছাড়া হয়না। নারী ‍দিয়ে নাটকগুলো সাজানো হয়। আর নারীদের ছবি দেখা স্পষ্ট হারাম। বলাবাহুল্য, এমন একটি নাজায়েয বিষয়কে কুরআনের বিষয়বস্তু উপস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা নিতান্তই কুরআনের তাচ্ছিল্যের শামিল।

চার. কুরআনে কাল্পনিক কিছু নেই। আর যেকোনো সত্য ঘটনার নাটকই তাতে কিছু কিছু কাল্পনিক বিষয় প্রবেশ করানো ছাড়া সম্ভব হয়না। সুতরাং কাল্পনিক কিছু বিষয়কে সংযোজন করে পুরো নাটকটাই কুরআনে বর্ণিত বলে প্রচারণা চালানো যার ফলে কুরআন ও কুরআন নয় এমন বিষয় এক হয়ে যায়। উপরন্তু এটি কুরাআনের অর্থগত বিকৃতিরও শামিল। তাই তা হারাম।

পাঁচ. কুরআনে এমন নানা শব্দ আছে যার অর্থ অনেক। আর কুরআনের উল্লিখিত ঘটনার অনেক ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার একাধিক অর্থ ও ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। অকাট্যাভাবে এর কোনো একটি অর্থকে কুরআনের আসল অর্থ বলে মত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই। অথচ নাটকের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিতভাবে একটি ব্যাখ্যা ও অর্থকেই নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়। যার দ্বারা বুঝা যায়, এই আয়াতের একটিমাত্রই অর্থ । এটি একটি নাজায়েয হওয়ার কারণ।

ছয়. কুরআন দ্বারা মানুষ উপদেশ গ্রহণ করবে। অথচ এসব নাটকের উদ্দেশ্য তা’লীম, তাবলীগ কিংবা উপদেশ গ্রহণ নয়; বরং খেল-তামাশা ও আনন্দ উপভোগ করা।  যার স্পষ্ট প্রমাণ হলো এসব ঘটনা ওয়াজ-নসিহতে শুনানো হলে, তেমন কউ শুনেনা। তবে নাটকের মাধ্যমে দেখালে আগ্রহভরে দেখে ও শুনে। সুতরাং কুরআনকে খেল-তামাশা বানানোর মত বিষয় কিভাবে জায়েয হতে পারে।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এসব নাজায়েজ ও হারাম নাটক ছবি দেখা থেকে হেফাযত করুন। আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস