1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
কার কথায় দাড়ি কাটবে? | কওমী ভয়েস

কার কথায় দাড়ি কাটবে?

  • আপডেট সময়: বুধবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৭১ জন দেখাছেন

এক মুষ্টি দাড়ি রাখা এটি ইসলামের একটি প্রতীক। মুসলমানিত্বের প্রতীক। দাড়ি লম্বা করা এবং মোচ খাটো করা দীনে তাওহীদের শিক্ষা, যা সকল নবীর শরীয়তে ছিল। দাড়ি লম্বা রাখা ওয়াজিব এবং এক মুষ্ঠি থেকে খাটো করা নাজায়েয। যেহেতু দাড়ি রাখা সকল নবীর পবিত্র রীতি ছিল তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। এতে কারো কারো ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, দাড়ি লম্বা করাও অন্যান্য সাধারণ সুন্নতের মতো একটি সুন্নত। অতএব তা করলে ভালো, না করলেও গুনাহ নেই! এটা একদম ভুল ধারণা। দাড়ি এমন কোনো সুন্নত নয়, যা রাখা-না রাখার স্বাধীনতা রয়েছে, এটা একটা ‘সুন্নতে ওয়াজিবা’। অর্থাৎ সুন্নতে মুয়াক্কাদা থেকেও এর গুরুত্ব বেশি এবং এটা পরিত্যাগ করলে গুনাহ হয়।

এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহ সমস্ত সাহাবী ও উম্মতে মুসলিমার আমল। দাড়ি রাখা ওয়াজিব। কমপক্ষে এক মুষ্টি রাখা ওয়াজিব, এর চে’ কম রাখা নাজায়েজ। বেশি রাখা জায়েজ। দাড়ির চৌহদ্দি হলো গালের শেষ ভাগে এবং গলার শুরু ভাগে বাম কান থেকে ডান কান পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা হাড্ডিতে গজানো চুল হলো দাড়ির সীমারেখা। বাকিটা দাড়ি নয়। থুতনির উপরের ছোট চুল কাটাও উচিত নয়।

عن ابن عمر  : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( خالفوا المشركين وفروااللحى وأحفوا الشوارب  . وكان ابن عمر إذا حج أو اعتمر قبض على لحيته فما فضل أخذه

হযরত ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-তোমরা মুশরিকদের বিরোধীতা কর। দাড়ি লম্বা কর। আর গোঁফকে খাট কর।

আর ইবনে ওমর রাযি. যখন হজ বা ওমরা করতেন, তখন তিনি তার দাড়িকে মুঠ করে ধরতেন, তারপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৫৩

সবসময় একটা কথা মনে রাখা উচিত শরীয়তের বিধান পালন করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতা হোক কিংবা স্ত্রী সন্তান হোক কারো কথা মানা জায়েজ নয়। হাদীসে পরিস্কার ভাষায় এসেছে-

عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” لَا طَاعَةَ لِبَشَرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللهِ

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্নিত। ররাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নাফরমানীর করে কোন মানুষের আনুগত্ব করা জায়েজ নয়। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১০৬৫

স্মরণ রাখবেন, দাড়ি কামানো বা এক মুষ্ঠি থেকে ছোট রাখা এমন এক গুনাহ, যা মানুষের সঙ্গে সর্বদা সংযুক্ত থাকে এবং এমন একটি গুনাহ, যা গোপন করারও কোনো উপায় নেই। এটা একটা প্রকাশ্য গুনাহ, যা খুবই ভয়াবহ। তদুপরি দাড়ির সঙ্গে এই আচরণটা করা হয় সুন্নতের প্রতি অনীহা এবং অনৈসলামিক ফ্যাশনের প্রতি আকর্ষণের কারণে। এ অবস্থায় তো ঈমানের ব্যাপারেই শঙ্কিত হতে হয়।

অতএব, আপনার পিতা-মাতা বা স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন যতই অসন্তুষ্ট হোন না কেন, এক্ষেত্রে তাদের কথা আপনার জন্য জায়েজ হবে না। দাড়ি রাখতে হবে। আপনি তাদের বুঝানোর চেষ্টা করুন। দীনের সমঝ মনে হয় খুবই কম তাদের মধ্যে। তাদেরকে দীনদার বানানোর জন্য চেষ্টা ফিকির করুন। বেশি বেশি করে দুআ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতের সকল বিপদ আপদ থেকে হিফাযত করুন। আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

One response to “কার কথায় দাড়ি কাটবে?”

  1. আনিসুজ্জামান says:

    থুতনির উপরে ঠোটের নীচের চুল কি দাড়ির অন্তর্ভুক্ত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস