ইসলাম প্রতিদিন

ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ প্রসঙ্গ

  Mahbub ৩১ অক্টোবর ২০২১ , ২:১৫ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

জিজ্ঞাসাঃ অনেক জায়গায় দেখেছি, ইমাম মাহমুদ হাবীবুল্লাহ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস দেওয়া হয়েছে। উনি নাকি হিন্দুস্তানের পূর্ব দিক থেকে বের হবেন এবং গাজওয়ায়ে হিন্দে নেতৃত্ব দেবেন। আমার প্রশ্ন হলো উক্ত বিষয়টি কি সঠিক? এটা বিশ্বাস করা কতটুকু জায়েজ?

সমাধানঃ গাজওয়ায়ে হিন্দ সম্পর্কে যে সমস্ত হাদীস আমরা পেয়েছি, তা হলো-

عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( عِصَابَتَانِ مِنْ أُمَّتِي أَحْرَزَهُمَا اللَّهُ مِنْ النَّارِ : عِصَابَةٌ تَغْزُو الْهِنْدَ ، وَعِصَابَةٌ تَكُونُ مَعَ عِيسَى بْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِمَا السَّلَام ) العصابة : الجماعة . أحرزهما : وقاهما .

رواه النسائي (رقم/3175)، والإمام أحمد في ” المسند ” (37/81) طبعة مؤسسة الرسالة ، وحسنه محققو هذه الطبعة

সারমর্মঃ দুটি জামাতকে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাবেন মুক্তি দিবেন। এক. যারা গাজওয়ায়ে হিন্দে অংশ নিবে। দুই. যারা হযরত ঈসা আঃ এর দল…।
ওপর হাদীসে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ : ( وَعَدَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَزْوَةَ الْهِنْدِ ، فَإِنِ اسْتُشْهِدْتُ كُنْتُ مِنْ خَيْرِ الشُّهَدَاءِ ، وَإِنْ رَجَعْتُ فَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ )
ورد هذا الحديث من طرق ثلاثة عن أبي هريرة :
الطريق الأولى : عن جبر بن عبيدة عن أبي هريرة .
رواه الإمام أحمد في ” المسند ” (12/28) وغيره ، وهذا إسناد ضعيف بسبب جبر بن عبيدة ،

সারমর্মঃ আবু হুরায়রাহ রাঃ বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাজওয়ায়ে হিন্দের ওয়াদা করেছেন। আমি যদি সেই যুদ্ধে শহীদ হতে পারতাম, তাহলে উত্তম শহীদ হতাম…।

আরেক হাদীসে এসেছে-
حَدَّثَنِي خَلِيلِي الصَّادِقُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : يَكُونُ فِي هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْثٌ إِلَى السِّنْدِ وَالْهِنْدِ ، فَإِنْ أَنَا أَدْرَكْتُهُ فَاسْتُشْهِدْتُ فَذَاكَ ، وَإِنْ أَنَا – فَذَكَرَ كَلِمَةً – رَجَعْتُ وَأَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ الْمُحَرَّرُ ، قَدْ أَعْتَقَنِي مِنَ النَّارِ )
رواه النسائي في ” السنن ” (رقم/3173)، وأحمد في ” المسند ” (14/419)

সারমর্মঃ  আমি যদি সেই যুদ্ধে শরীক হতাম, তাহলে শহীদ হতাম…।

ওপর আরেক হাদীসে এসেছে-
عن صفوان بن عمرو ، عن بعض المشيخة ، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم – وذكر الهند – فقال : ( ليغزون الهند لكم جيش يفتح الله عليهم ، حتى يأتوا بملوكهم مغللين بالسلاسل ، يغفر الله ذنوبهم ، فينصرفون حين ينصرفون فيجدون ابن مريم بالشام ) قال أبو هريرة : إن أنا أدركت تلك الغزوة بعت كل طارف لي وتالد وغزوتها ، فإذا فتح الله علينا وانصرفنا فأنا أبو هريرة المحرر ، يقدم الشام فيجد فيها عيسى بن مريم ، فلأحرصن أن أدنوا منه فأخبره أني قد صحبتك يا رسول الله . قال : فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وضحك ثم قال : هيهات ، هيهات .
رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” (ص/409)

এই হাদীসেও আবু হুরায়রাহ রাঃ এই যুদ্ধে শরীক হওয়ার আশা করছিলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বলেছিলেন যে এটা তো অনেক দূরে…।
আরেক জায়গায় দেখুন-

يغزو قوم من أمتي الهند ، فيفتح الله عليهم ، حتى يلقوا بملوك الهند مغلولين في السلاسل ، يغفر الله لهم ذنوبهم ، فينصرفون إلى الشام فيجدون عيسى بن مريم بالشام )
رواه نعيم بن حماد في ” الفتن ” (ص/399) قال : حدثنا الوليد ، عن صفوان بن عمرو ، عمن حدثه عن النبي صلى الله عليه وسلم . وهذا إسناد ظاهر الضعف

যার সারমর্ম এই যুদ্ধে শরীক যারা হবে, তাদের গুনাহ মাফ।

উল্লেখ্য, হিন্দুস্থানের জিহাদ নিয়ে সহীহ বর্ণনার কোথাও ইমাম মাহমুদ নামের কিছু পাইনি। ইমাম মাহদী আঃ এর নাম এসেছে, তবে ইমাম মাহমুদ আঃ এর নাম কোনো হাদীসের কিতাবে এ নাম পাওয়া যায়নি।

তবু বর্তমানে কিছু ব্যাক্তিরা ইমাম মাহমুদ এর নাম বলেন, তাদের দাবী মতে তিনি হিন্দুস্থানের জিহাদে  নেতৃত্ব দিবেন, সেই মর্মে তারা কিছু দলিল দেনঃ

“১। হযরত ফিরোজ দায়লামি (রাঃ)- থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রছুল (ছাঃ)- বলেছেনঃ আখেরী জামানায়, ইমাম মাহদী র পূর্বে ইমাম মাহমুদ-এর প্রকাশ ঘটবে। সে বড় যুদ্ধের শক্তির যোগান দিবে। তার যামানায় মহাযুদ্ধের বজ্রাঘাতে বিশ্বের অধ্বঃপতন হবে,এবং বিশ্ব এই সময়ে ফিরে আসবে। সে তার সহচর বন্ধু “”সাহেবে কিরান”” কে সাথে নিয়ে যুদ্ধ পরিচালোনা করবে-যে বেলাল ইবনে বারাহ-এর বংশোদ্ভুত হবে। তোমরা তাদের পেলে যানবে, ইমাম মাহদীর প্রকাশের সময় হয়েছে।
(আসরে যুহরি,১৮৭ পৃঃ, তারিখে দিমাশাকঃ২৩৩ পৃঃ, ইলমে তাছাউফঃ ১৩০ পৃঃ, ইলমে রাজেনঃ ৩১৩ পৃঃ, বিহারুল আনোয়ারঃ ১১৭ পৃঃ)

উক্ত হাদিছ টি এই পাচটি গ্রন্থে উল্লেখ্য রয়েছে।

অধিকাংশ মুহাদ্দিছগন ব্যক্ত করেছেন, উক্ত হাদিছটি ছহিহ, কেউ কেউ বলেছেন, হাসান।)

২। আবু বকর সিদ্দিক রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,রছুল ছঃ বলেছেন,শেষ জামানায় ইমাম মাহমুদ ও তার বন্ধু সাহেবে কিরান বারাহর প্রকাশ ঘটবে।আর তাদের মাধ্যমে মুসলমানদের বড় বিজয় আসবে।আর তা যেন মাহদীর আগমনের সময়।

(কিতাবুল ফিরদাউস,৮৭২)

৩। আবু বছির (রঃ) বলেন, যাফর সাদিক (রঃ) বলেছেন, মাহদীর আগমনের পূর্বে, এমন একজন খলিফার আবির্ভাব ঘটবে, যিনি হবেন, মাতার দিক থেকে কাহতানি এবং পিতার দিক থেকে কুরাঈশী। তার নাম মাহদীর নামের সাথে কিছুটা সাদৃশ্যমান হবে এবং তার পিতার নামও কিছুটা মাহদীর পিতার নামের সাদৃশ্যমান হবে।

(ইলমে তাছাউফ ঃ ১২৮ পৃঃ, তারিখে দিমাশাকঃ ২৩২ পৃঃ)

৪। সাহল ইবনু সা’দ রাঃ বর্নিত,,,,তিনি বলেন, রছুল (ছ.)–বলেছেনঃ অচিরেই পূর্ব দিকে এক ফিৎতনা সৃষ্টি হবে।আর তা হবে মুশরিকদের দ্বারা। তখন মুমিনদের একটি দল তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় আনবে। আর তাদের সেনাপতি হবে ঐ সময়ের সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি “সাহেবে কিরান”! আর তাদের পরিচালনা করবে একজন ইমাম। যার নাম হবে “মাহমুদ””!অবশ্যেই তারা “” মাহদীর “”আগমন বার্তা নিয়ে আসবে।
(তারিখুল বাগদাদ,১২২৯)

৫। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)বলেন, রছুল (ছ).বলেছেনঃ ইমাম মাহদীর পূর্বে এক জন ইমামের আর্বিভাব হবে আর তার নাম হবে “মাহমুদ।” তার পিতার নাম হবে আব্দুল। সে দেখতে হবে খুবই দুর্বল। তার চেহারায় আল্লাহ মায়া দান করবেন। আর তাকে সে সময়ের খুব কম লোকই চিনবে। অবশ্যেই আল্লাহ সেই ইমাম ও তার বন্ধু -যার উপাধি হবে “””সাহেবে কিরাণ”””–তাদের মাধ্যমে মুমিনদের একটা বড় বিজয় আনবেন””
( ইলমে রাজেন,৩৪৭, কিতাবুল ফিরদাউস,৭৫৪, ইলমে তাসাউফ,১২৫৩)

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কোনো মাসাদারে আসলিয়্যাহ তথা মূল হাদীস গ্রন্থ যেখানে সনদ সহ হাদীস এসেছে, এমন কোনো হাদীসের কিতাবের কোথাও  উক্ত রেওয়ায়াতগুলো পাওয়া যায়নি।
আল্লাহ-ই ভালো জানেন।