1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
আল্লাহকে খোদা বলা কি শিরক? | কওমী ভয়েস
সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন

আল্লাহকে খোদা বলা কি শিরক?

মুফতী মাহবুব
  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৮২ জন দেখা

আমাদের সমাজে মাঝেমধ্যে নতুন নতুন চিন্তা ও মতবাদ ছড়ায়, বিস্তার লাভ করে। সবগুলো যে খারাপ, তা কিন্তু না। কিছু চিন্তা ভালোও হতে পারে। আবার অনেক চিন্তাই খারাপ। কেউ কেউ বলছে, আল্লাহ তাআলাকে খোদা বলা যাবে না। অতি উৎসাহী অনেকে শিরক বলেও আখ্যায়িত করতে কুণ্ঠাবোধ করছে না। আসলে কুরআন-সুন্নাহর পূর্ণ জ্ঞান ও বোঝশক্তি না থাকলে, ফিকহ ও উসুলে ফিকহ এবং মুজতাহিদ ইমামদের গবেষণাপত্রগুলো আত্মস্থ না হলে এসব বিভ্রান্তি দেখা দেওয়া অমূলক কিছু নয়। শরিয়তের মৌলিক মেজাজ না বুঝলে পদে পদে সমস্যা সৃষ্টি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

একটি মূলনীতি হলো, আল্লাহ তাআলাকে অন্য ভাষায় এমন শব্দে ডাকা জায়েজ, যে শব্দে আর কাউকে ডাকা হয় না। সেই সাথে এটা অন্য কোন ধর্মের ধর্মীয় কোন নাম নয়।-আল ইয়াওয়াক্বীত ওয়াল জাওয়াহীর-৭৮, ফাতওয়া আলমগীরী-৬/৪৪৬

উল্লেখিত মূলনীতির আলোকে খোদা শব্দটি আল্লাহ তাআলার নাম হিসেবে বাংলা, উর্দু, হিন্দিতে অনুবাদ হিসেবে বলাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ খোদা শব্দটি ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কোন ধর্মীয় শব্দ নয়। সেই সাথে এর দ্বারা আমরা কেবল আল্লাহকেই বুঝে থাকি। অন্য কোন সত্বাকে বুঝি না। পক্ষান্তরে বিষ্ণু অর্থ রব, এবং ব্রাহ্মণ অর্থ সৃষ্টিকর্তা হলেও এটা ইসলামি কোন শব্দ নয়। সেই সাথে এ শব্দ দু’টি হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিক। তাই এ শব্দে আল্লাহকে ডাকা জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে খোদা শব্দটি। এটা নিরেট ইসলামি শব্দ। এর দ্বারা অন্য কোন ধর্মকে বুঝায় না। বুঝায় না আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্বাকেও। তাই খোদা বলে আল্লাহকে বুঝাতে কোন সমস্যা নেই।

মহান আল্লাহ তাআলার ৯৯টি গুণবাচক নাম রয়েছে। যা স্পষ্ট হাদীসে উল্লেখ আছে। এগুলো ছাড়াও আরও কিছু নাম রয়েছে। সেগুলো দ্বারাও তাকে ডাকা যায়। এগুলো তো আরবি নাম। আরবি ছাড়াও পৃথিবীর যে কোনো ভাষায় আল্লাহকে বোঝানোর জন্যে যে নাম প্রচলিত তা দিয়ে তাকে ডাকতে কোনো সমস্যা নেই। যদি ফার্সি খোদা বলা নাজায়েজ হয় তাহলে বাংলায় সৃষ্টিকর্তা, প্রভু ইত্যাদি বলা কী হবে?

আমাদের শত শত বছর ধরে ফার্সি ভাষায় পণ্ডিত ফুকাহায়ে কেরাম ও মুসলিম মিল্লাত আল্লাহকে খোদা বলে সম্বোধন করে আসছে, কোনো সমস্যা হয়নি; আজ কেন এত সমস্যা। আরবির পর ফার্সি ভাষাই ইসলামের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। বিখ্যাত অনেক ইমাম ফার্সিভাষী ছিলেন। তবে হ্যাঁ, যদি এভাবে বলা হয় যে, খোদার চেয়ে আল্লাহ বলা উত্তম। তাহলে কিছুটা মেনে নেওয়া যায়। যৌক্তিক হতে পারে।

যারা আল্লাহকে খোদা বলা শিরক মনে করে

সমাজে যারা খোদা বলা না জায়েজ বলে থাকেন তাদের দলিল হল-আল্লাহ আরবী শব্দ, তাই একে বাংলা উর্দুতে অনুবাদ করে খোদা বলা জায়েজ হবে না।

এর উত্তর হল-যদি আরবী আল্লাহ শব্দকে অনুবাদ করে খোদা বলা না জায়েজ হয়, তাহলে আরবী সালাত শব্দকে বাংলা উর্দু-ফার্সিতে নামায বলা কিভাবে জায়েজ?

আরবী সওম শব্দকে বাংলা উর্দতে রোযা বলা জায়েজ কিভাবে?

যদি এসব জায়েজ হয়, তাহলে আল্লাহ শব্দের অনুবাদ খোদা বলাও জায়েজ।

দ্বিতীয় আপত্তির সমাধান

তাদের আরেকটি দলিল হল-আল্লাহ শব্দের কোন বহুবচন নেই। নেই আল্লাহ সত্বারও কোন বহুবচন। অথচ খোদা শব্দটির বহুবচন হল খোদাওন্দ। তাই খোদা বলার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বহুবচন সাব্যস্ত করা হচ্ছে, তাই আল্লাহ শব্দের অনুবাদ খোদা শব্দ দিয়ে করা জায়েজ নয়।

এ যুক্তিটিও একটি অগ্রহণীয় যুক্তি। কারণ যদি তাই হয়, তাহলে রব শব্দ দিয়ে আল্লাহকে ডাকা জায়েজ হবে না। কারণ “রব” শব্দের বহুবচন“আরবাব” আছে। আল্লাহ তাআলাকে রহীম শব্দেও ডাকা জায়েজ হবে না, কারণ রহীম শব্দের বহুবচন “রুহামা” আছে, তেমনি আল্লাহ তাআলাকে ইলাহ ডাকাও জায়েজ হবে না, কারণ “ইলাহ” এর বহুবচন“আলিহাহ” আছে। এসব কথা বলা যেমন বোকামীসূলভ বক্তব্য হবে তেমনি খোদা শব্দের বহুবচন খোদাওয়ান্দ হওয়ায়, তা আল্লাহ শব্দের অনুবাদ হিসেবে হারাম হওয়ার ফাতওয়া দেয়াও বোকামী বৈ কিছু নয়।

আসলে, কোনো কথা বলার আগে ভেবেচিন্তে তাহকীক করে বলা উচিত। শুনলাম আর বলে দিলাম, এটা অনুচিত। হ্যাঁ, স্বীকার করি, যথাসম্ভব আরবি পরিভাষা ব্যবহার করা শ্রেয়। তাই বলে অন্য ভাষায় পরিভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে এটা সঠিক নয়। উরফ বা পরিভাষার সংজ্ঞা ও ব্যবহারবিধি না-জানার কারণেই এমন কথা বলে বেড়ায় বলে আমার বিশ্বাস।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্য সত্য হিসেবে বুঝার, ও মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে বুঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন কওমী ভয়েস