1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
আত্মহত্যাকারীর জানাযা ও দুআ | কওমী ভয়েস

আত্মহত্যাকারীর জানাযা ও দুআ

  • আপডেট সময়: রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১০৬ জন দেখাছেন

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা অনেক বড় কবিরা গুনাহ এবং এর শাস্তিও খুব ভয়াবহ- একথা সবাই জানে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একে স্পষ্ট ভাষায় হারাম ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-

وَلَا تَقْتُلُوا أَنفُسَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا [٤:٢٩

আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু। {সূরা নিসা-২৯}

আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও তার শাস্তি সম্পর্কে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

عَنْ أبي هريرة , عَن النبي – صلى الله عليه وسلم – قال : من تردى من جبل , فقتل نفسه , فهو في نار جهنم يتردى فيها خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن تحسى سما , فقتل نفسه , فسمه في يده يتحساه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا , ومن قتل نفسه بحديدة , ثم انقطع علي شيء , يعني خالدا , كانت حديدته في يده يجأ بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের মধ্যে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তার দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১৯৬৪

শরীয়তের দৃষ্টিতে আত্মহত্যাকারী ফাসেক; তবে সে কাফের নয়। ফাসেক হলেও তার জানাযা পড়তে হবে। বিনা জানাযায় দাফন করা যাবে না। হযরত ইমরান রাহ. বলেন,

سَأَلْتُ إبْرَاهِيمَ النَّخَعِيّ عَنْ إنْسَانٍ قَتَلَ نَفْسَهُ أَيُصَلَى عَلَيْهِ؟ قَالَ : نَعَمْ , إنَمَا الصَّلاَةُ سُنَّةٌ.

আমি ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-কে জিজ্ঞেস করলাম, আত্মহত্যাকারীর জানাযা পড়া যাবে কি? তিনি বললেন, হাঁ, নামায পড়াটাই নিয়ম। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৯৯০

তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, জানাযা আদায়ের জন্য উপযুক্ত লোক থাকলে সমাজের কোনো বড় আলেম এবং নেতৃস্থানীয় কোনো লোক জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না। যেন অন্যরা তা দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকে। জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি ধারালো বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করল। তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

أَمَا أَنَا فَلَا أُصَلِّي عَلَيْهِ.

আমি এর জানাযা পড়ব না।-সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস ২১০২

আত্মহত্যা মহাপাপ ও কবিরা গুনাহ হওয়া সত্বেও আত্মহত্যাকারীর জন্য দুআ করা যাবে। কেননা, যত বড় গুনাহগারই হোক যদি সে ঈমান অবস্থায় মারা যায় তবে তার জন্য ইস্তিগফার করা জায়েয। তাই আত্মহত্যা কাবীরা গুনাহ হলেও ঐ ব্যক্তির জন্য দুআ করা যাবে। একটি হাদীসে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন-

كُنَّا نُمْسِكُ عَنِ الاسْتِغْفَارِ لأَهْلِ الْكَبَائِرِ، حَتَّى سَمِعْنَا نَبِيَّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ لا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَقَالَ: أَخَّرْتُ شَفَاعَتِي لأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

‘আমরা কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য মাগফেরাতের দুআ করতাম না। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যখন শুনলাম- “আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করবেন না। শিরক ছাড়া যে কোনো গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন।” আর আমি উম্মতের মধ্যে কবীরা গুনাহে জড়িয়ে যাওয়া লোকদের জন্য আমার সুপারিশের ক্ষমতাকে জমা করে রেখেছি এরপর থেকে আমরা তাদের জন্য দুআ করতাম। (মুসনাদে বাযযার, হাদীস ৫৮৪০; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ১৭৬০১)

মুসলিম শরীফের এক হাদীসে এসেছে, জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিযরত করলেন, তখন তুফাইল ইবনু আমর এবং তার গোত্রের একজন লোকও তাঁর সঙ্গে মদীনায় হিজরত করেন। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হয়নি। তুফাইল ইবনু আম্র রা.-এর সাথে আগত লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। রোগযন্ত্রণা বরদাশত করতে না পেরে তীর নিয়ে তার হাতের আঙুলগুলো কেটে ফেলল। এতে উভয় হাত থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে। অবশেষে সে মারা যায়।

তুফাইল ইবনু আম্র দাওসী রা. স্বপ্নে তাকে ভাল অবস্থায় দেখতে পেলেন, কিন্তু তিনি তার উভয় হাত আবৃত দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছেন?  সে বলল, আল্লাহর জন্য তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফাইল রা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে যে, আমি তোমার হাত দুটি আবৃত দেখছি? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে যে, আমি তা দুরস্ত করব না, তুমি স্বেচ্ছায় যা নষ্ট করেছ। তুফাইল রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’আ করলেন, ইয়া আল্লাহ! আপনি তার হাত দুটিকেও ক্ষমা করে দিন।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস