1. qawmivoiceb@gmail.com : Mahbub :
অক্ষম স্বামীর স্ত্রী পর পুরুষ থেকে চাহিদা পূরণ করতে পারবে? | কওমী ভয়েস

অক্ষম স্বামীর স্ত্রী পর পুরুষ থেকে চাহিদা পূরণ করতে পারবে?

  • আপডেট সময়: শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৬২ জন দেখাছেন

প্রথমত: সূরা নিসার ১৯ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,  وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ ‘’আর তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচারণ কর।” স্বামী স্ত্রীর চাহিদা পূরণ করাও সদাচারণের অন্তর্ভুক্ত। এটা স্ত্রী হিসেবে তার অধিকার। এই অধিকার পূরণ করা সক্ষম স্বামীর ওপর ওয়াজিব।

من حقّ الزّوجة على زوجها أن يقوم بإعفافها ، وذلك بأن يطأها ، وقد ذهب جمهور الفقهاء – الحنفيّة والمالكيّة والحنابلة – إلى أنّه يجب على الزّوج أن يطأ زوجته

‘স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকারের মধ্যে অন্যতম হল, স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমের মাধ্যমে তার পবিত্র জীবন যাপনের প্রতি যত্নশীল হবে। হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি মাযহাবের অধিকাংশ ফকিহর মতে স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া স্বামীর জন্য ওয়াজিব।’-আল মাউসুয়া’তুল ফিকহিয়্যা ৩০/১২৭

স্বামী স্ত্রীর সাথে কত দিন পর পর সহবাস করবে –এব্যাপারে ফকিহগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া রহ. বলেন,

يجب على الرجل أن يطأ زوجته بالمعروف ، وهو من أوكد حقها عليه ، أعظم من إطعامها ، والوطء الواجب قيل : إنه واجب في كل أربعة أشهر مرة ، وقيل : بقدر حاجتها وقدرته ، كما يطعمها بقدر حاجتها وقدرته ، وهذا أصح القولين

‘স্ত্রীর সঙ্গে ভালোভাবে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া ওয়াজিব। এটা স্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অধিকার এবং ভরণপোষণের অন্যতম অংশ। কেউ কেউ বলেছেন, চার মাসে একবার ওয়াজিব। কারো কারো মতে এক্ষেত্রে ভরণপোষণের অন্যান্য বিষয়ের মত স্ত্রীর প্রয়োজন ও স্বামীর সক্ষমতাই মূল বিবেচ্য বিষয়। আর এটাই বিশুদ্ধ মত।’ মাজমুউল ফাতাওয়া ৩২/২৭১

দ্বিতীয়ত: যদি কারো স্বামী এই অধিকার আদায়ে অক্ষম হয় তার শারীরিক কিংবা মানসিক সমস্যার কারণে; এক্ষেত্রে একজন নেককার স্ত্রী হিসেবে তার এই পরিস্থিতিতে তার সঙ্গ দিতে হবে। তাকে যেকোনোভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করতে হবে। দুআ ও নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। কিন্তু যদি তার এই অনীহার কারণ হয়, স্ত্রীর প্রতি আগ্রহ অনুভব না করা। তাহলে তার জন্য সাজসজ্জা করে, তার সঙ্গে ভালবাসাপূর্ণ নিত্যনতুন রোমান্টিক আচরণ করে তাকে স্ত্রীর প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। হতে পারে, আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে স্ত্রীকে সফল করবেন। যদি আল্লাহর রহমত সঙ্গী হয় তাহলে হতে পারে স্ত্রী তাকে মানসিক শান্তি দিলে তিনি মানসিক শান্তি দিবেন, শারীরিক সুখও দিবেন।

মানবিক এই চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সৃষ্টিগতভাবেই ব্যবধান আছে। নারী তার ঋতুকালীন সময় ও একান্ত অসুস্থতা ছাড়া স্বামীর চাহিদা যেকোন সময়ে পূরণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার উত্তেজনা থাকা জরুরি নয়। পক্ষান্তরে পুরুষ তা পারে না। পুরুষ তার স্ত্রীর এই চাহিদা পূরণ করতে হলে উত্তেজনা ও সক্ষমতার প্রয়োজন হয়। আগ্রহের দরকার হয়। এজন্য হাদীস শরিফে সঙ্গমে অস্বীকারকারী স্ত্রীর ব্যাপারে ‘ধমক’ এসেছে। পক্ষান্তরে স্বামীর ব্যাপারে তা আসে নি। কেননা, আল্লাহ তাআলার নীতি হল, لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না।’ -সূরা বাকারা ২৮৬

তৃতীয়ত: যদি স্ত্রী গুনাহয় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রে স্ত্রী আল্লাহকে ভয় করবে। আল্লাহ বলেছেন,

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا

আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।-সুরা বনী-ইসরাঈল ৩২

স্ত্রী যেন গুনাহ না করে। বরং স্ত্রী তার স্বামীকে সুস্থ করে তোলার ব্যাপারে সচেষ্ট হবেন। তিনি যখন অসুস্থ; স্ত্রীকে তো একটু কষ্ট করতে হবে, ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। সর্বোপরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

আর যদি স্ত্রী মনে করে, সে যথেষ্ট সবর করেছেন। আর পারছেন না বা পারবেন না। কিংবা যদি স্ত্রী স্বামীর ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হন তাহলে স্বামীর উচিত, উত্তম পদ্ধতিতে তালাকের মাধ্যমে স্ত্রীকে মুক্ত করে দেয়া। যদি তিনি তা না করেন তাহলে ইসলাম স্ত্রীকে এই অধিকার দিয়েছে যে, স্ত্রী তার কাছে তালাকের দাবী করতে পারেন। তখন এ দাবী করাটা স্ত্রীর জন্য অন্যায় হবে না।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এজাতীয় আরও পড়ুন
©২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত| এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।
ডিজাইন: কওমী ভয়েস